শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

ফেসবুক কি জ্বালা মেটানোর মাধ্যম…

এস এ রুবেল | বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 3610 বার

ফেসবুক কি জ্বালা মেটানোর মাধ্যম…

কাউকে সম্মান দিলে তোমিও সম্মান পাবে। বিষয়টা এমন তোমার চালচলন ভাব ভঙ্গিমা কথাবার্তায় এমন কিছু বিষয় ফুটে উঠবে যাতে অন্য সবাই তোমায় দেখে মুগ্ধ হয়। তোমায় অহংকারী না ভাবে। মানুষের মন জয় করার ছোট্ট একটা কৌশল হচ্ছে হাসি মুখে আন্তরিকতার সহিত কথা বলা। ক্রোধ রাগান্বিত হয়ে কারো মন জয় অসম্ভব।
এ বিষয়টার সাথে আরেকটা বিষয়ের যথেষ্ঠ মিল খুজে পায়। কেউ কারো  অপ্রয়োজনে ক্ষতি করলে তোমিও অন্য কারো দ্বারা ক্ষতির শিকার হবে। এটাই বাস্তব। পৃথীবিতে মানুষের রুচির শেষ নেই। দেশে এমন বহু মানুষ দেখেছি যারা ফাও খেটে অন্যের মঙ্গল কামনা করে। এর বিপরিতে এও দেখেছি নিজের পকেটের টাকা খরচা করে অন্যকে বেকায়দায় ফেলতে চাই। কেন করে এর সঠিক উওর না জেনেই সে এমন করবে, কারন এতেই তার আত্মতৃপ্তি। ছোট বেলায় দেখেছি আমাদের এলাকার একজন ব্যক্তি কারো বিয়ে ঠিক হলে সে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে পাত্র কিংবা পাত্রীর বাড়িতে গিয়ে হ য ব র ল টাইপের কিছু মিথ্যে বুলি আওড়িয়ে আসতো। আমরা গীবত বলি এ বিষয়ক আরকি। বিয়ে ভাঙ্গলেই যেন তার সফলতা।
সকালে ফেসবুকে ঢুকে নবীনগরের খবর নামে এক আইডির রিকোয়েস্ট দেখে কৌতুহল জাগল। তাই তার টাইমলাইন দেখতে গিয়ে নিজের ছবি আবিস্কার করলাম। বুঝার বাকি নেই কেউ আমার বারোটা বাজাতে এ কাজ করছে। ভদ্রলোক হয়তো আমার টুয়েন্টি ফোর ডট কমের নাম জানেন তাই তিনি সেখানেও এর উল্ল্যেখ রেখেছেন। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি আমাকে নিয়ে নানান কুরুচিপুর্ন পোস্ট দিয়ে আমার ব্যক্তিগত স্বাভাবিক জীবনধারা বিঘ্ন ঘটাতে তার এ অপচেষ্ঠা।
আমাকে সবার ভাল নাও লাগতে পারে। কারো অপছন্দের তালিকায় আমার নাম থাকাটা অস্বাভাবিক কিছুই নই। তাই বলে আমাকে হেয় করতে ফেসবুকের সহযোগিতা নেয়াটা আমি মনে করি এর অপব্যবহার করা হচ্ছে।
গত বছরের ১২ নভেম্বর প্রথম আলোর চিঠিপত্র কলামে জনৈক পাঠক লিখেছেন ভার্চুয়াল জগতে ফেসবুক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। কিছু খারাপ ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নষ্ট করে দিচ্ছে। তারা নকল ফেসবুক আইডি তৈরি করে অন্যের খারাপ খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অনেকেই ফেসবুক থেকে সরে এসেছেন, আর যারা এখনো ফেসবুক ব্যবহার করছেন, তারা প্রতিনিয়ত ভয় নিয়ে ব্যবহার করছেন। ফেসবুকের এই অপব্যবহার দ্রুত বন্ধ না হলে ব্যক্তিনিরাপত্তা বলতে আর কিছুই থাকবে না। ব্যাপারটা অনেকটা বানরের গলায় ঘণ্টা পরানোর মতো হয়েছে।
মুক্ত চিন্তা ব্লগে একজন লিখেছেন, ফেইসবুক ব্যবহারে অসংখ্য ভাল দিক থাকা সত্বেও খারাপ দিকটিই আজ অনেক বেশী প্রতিফলিত হচ্ছে শিশু-কিশোর ও আবাল বৃদ্ধবনিতা সকলের মধ্যে। শুধু নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডই নয়, ব্যক্তিবিশেষের চারিত্রিক অবনতি, হত্যা হুমকি, পারিবারিক ভাঙ্গন, জালিয়াতি, কিডন্যাপ এর মত সামাজিক অপরাধ ঘটছে জনপ্রিয় এই সামাজিক নেটওয়ার্কিং এর দ্বারা। অন্যের নাম বা ছদ্ম নাম, ছবি ব্যবহার করে ফেইক আইডি খুলে সমাজের হতাশাগ্রস্ত মানসিক রোগীরা আজ আশ্রয় নিয়েছে ফেইসবুক নামক সামাজিক এই ওয়েবসাইটে। যেকোনো প্রযুক্তির ভাল-মন্দ আছে..থাকবে..কিন্তু খারাপ পরিহার করে ভালো দিকটিকে গ্রহণ করাই তো কাম্য। সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার জন্য তৈরি করা এই মাধ্যমটি গ্রাস করে চলেছে ধর্মান্ধ জঙ্গীবাদ, মতলববাজ অসুস্থ মনুষ্য। সামাজিক অস্থিরতা তৈরিতে ফেসবুক যেন আজ  অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠছে…………।
আমার ফ্রেন্ড লিস্টের অনেকেই এ বিষয়ে ভুক্তভোগী। তারা আমাকে বহুবার এ নিয়ে লেখার পরামর্শ দিয়েছে। এমন কোন এলাকা বাদ নেই যেখানে ফেক আইডি খুলে কারো না কারো বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে।
আগে দেখতাম বলিষ্ঠ লেখনীর কারনে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে অনেকেই হাসপাতালমুখি হয়েছে। আমার দুর্ভাগ্য এ লাইনে এসে কিছু বিলাই টাইপের শত্রু তৈরি করলাম যাদের মিউ মিউ শব্দে ফেসবুক সীমাবদ্ধ। অনেকে বলেন পিতৃ পরিচয়হীন যেমন…ফেক আইডি যারা চালাই তারা একই। কি লাভ মিউ মিউ করার। যত্তসব বিলাইয়ের দল।
কলকাতার একটা ছবিতে হিরুর ডায়ালগ ছিল এমন ‘বুকের পাটা সলিট কর’ আমি তো হিরু নয় তাই ডায়ালগ দিতে পারিনা। তবে এটুকুই বলব আমাকে নিয়ে কোন প্রশ্ন কিংবা দেনা পাওনা যায় থাকুক প্রকাশ্যে আসুন। আর যাই হোক অন্তত দেখেতো শান্তি পেতাম।
মাঝে মাঝে মনে চাই ফেসবুক ত্যাগ করি। লেখালেখির ইতি টানি। পরে ভাবি কি কারনে, কার জন্য এমন করব। যেখানে দেশ নিয়ন্ত্রকদের নিয়ে আজে বাজে লেখা পোস্ট হয়। সেখানে আমাকে নিয়ে কুসাহিত্যিকদের লেখার কারনে কি এমন ক্ষতি হবে এটা ভাবলে লাজে মরে যায়।
এর আগেও ফেক আইডিতে আমাকে নিয়ে পোস্ট করা নানান গল্প আমি নিজে পড়েছি। গল্পের হিরু আমি নিজেই। ওই লেখা পড়ার সময় পুলকিত হতাম। আর ভাবতাম লেখক আমার বিষয়ে বিস্তারিত না জেনে আমার নাম উল্ল্যেখ করে  লিখতে গিয়ে কতটা সময় নষ্ট করল। তার বুঝা উচিত, বড় লেখক হতে গেলে কারো জীবনি লিখতে গেলে তার কাছে আসতে হয়। তার সাথে মিশে তাকে অনুভব করতে হয়। আর অনেক সময় গুরুত্বপুর্ণ পোস্ট বানানের ভুলের কারনে মানহীন হয়ে যায়। বিষয়টি খেয়াল রাখতে সংশ্লীষ্ঠ আইডির মালিকের প্রতি আমার পরামর্শ রইল।
কি আর করা এভাবেই যেহেতু ওরা চালিয়ে নিতে পারে আমি আর কি বলব তারপরেও আল্লাহতায়ালা তাদের বুঝার তৌফিক দেন । আমিন।

বিঃদ্রঃ- সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ফেসবুকের গুরুত্ব ব্যাপক। আজকাল এটাকে পুজি করে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের হেয় করা হচ্ছে ফেক আইডি খুলে। যা কিনা সাইবার অপরাধে দন্ডনীয়। আজকাল সাংসদ, ইউএনও,ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিয়ে মনগড়া স্ট্যটাস দেয়া হচ্ছে এসব ফেক আইডিতে। যার কারনে ভ্রান্ত ধারনা তৈরি হয় জন সাধারনের মাঝে। এর সমাধানে আইসিটি আইনে যে কোন সহযোগিতায় 01766678888 মোবাইল নম্বর দেয়া আছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ও তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিশেষ টিম থাকলেও এর সুফল পেতে বেগ পোহাতে হয় ভুক্তভোগীদের।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4630 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2664 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০