শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, ধর্ম দর্শন, শিরোনাম, স্লাইডার

বাংলাদেশের প্রায় লক্ষলক্ষ ফেসবুক ব্যবহারকারী এদের পাল্লায় পড়ে ভুল পথে যাচ্ছে

ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতা জরুরী

অনলাইন ডেস্ক | রবিবার, ২২ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 4255 বার

ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতা জরুরী

কি যুগ আইলোরে ভাই,এখন ফেসবুকে মুসলিম হলে কমেণ্টে আমিন লিখতেই হয়,নইলে আমার জাত গেল বলে!,,আবার নাকি এড়িয়েও যাওয়া যাবে না! . .এছাড়াও জান্নাতের টিকিট এখন অনলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে! আপনি জান্নাতে যেতে চাইলে ঘরে বসে কমেন্টে আমিন লিখলেই টিকিট কনফার্ম!
রেডিও আম, জাম, …….অমুক রেডিও তমুক এইরকম অসংখ্য পেইজে ফেসবুক ভরপুর। এদের লাইক এক দুই হাজার নয়। এদের লাইক সংখ্যা বিশ/ত্রিশ হাজার থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত। . বাংলাদেশের প্রায় লক্ষলক্ষ ফেসবুক ব্যবহারকারী এদের পাল্লায় পড়ে ভুল পথে যাচ্ছে। এরা আবার অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে মানুষের দুর্বলতম দিক,আবেগ কে। ইসলামকে ব্যবহার করে এই কাজটি করছে সুনিপুনভাবে। . এদের স্ট্যাটাসগুলো যেরকম হয়ে থাকে তার কিছু নমুনা দেখুন-

১.একটি অসুস্থ বা রুগ্ন শিশুর ছবি দিয়ে বলবে কেউ আমীন না লিখে যাবেন .না।
২.আল্লাহ তায়ালার নাম অমুক যায়গায় এখানে সেখানে পাওয়া গিয়েছে।
৩.সব পুড়ে গেছে অথবা পানিতে তলিয়ে গেছে কিন্তু আল্লাহর নাম আর মসজিদ রয়ে গেছে।
৪.হিজাব পরা কোনো আরব রমনীর ছবি দিয়ে বলবে এই মুসলিম বোনটির জন্য কতগুলা লাইক।
৫.কখনো শুদ্ধ কখনো জাল হাদিস ব্যাখ্যা ছাড়া তুলে ধরে বলবে সবাই লাইক দিন যদি জান্নাতে যেতে চান।
৬.কখনো মিয়া খালিফার ইসলাম গ্রহনের খবর,কখনো টনি ব্লেয়ারের শালির/অংসাং সুচির/এই বোন/ভাই টির ইসলাম গ্রহনের খবর।
৭.আদম আঃ এর পায়ের ছাপ, ফাতিমা( রা) রশাড়ি।
৮.এমনকি রাসুল সাঃ কে ব্যবহার করতেও এরা ছাড়েনা (নাউজুবিল্লাহ)।


mesi
বিভিন্ন নবী রাসুলদের মাজার/কবরের ছবি। . এদের সব পোস্টেই থাকে এডিট করা কোন না কোন ছবি। আর শেষে থাকে *মুসলিম হলে কমেন্টে আমীন লিখুন *লাইক না দিয়ে যাবেন না। এই খবরটি বেশি বেশি শেয়ার করুন। জান্নাতে যেতে চাইলে আমিন /সুবনাল্লাহ না বলে যাবেন না! .
অথচ সরলমনা মুসলিমেরা না বুঝেই এসবে লাইক দিয়ে থাকেন। শেয়ার করে থাকেন। তারা জানেন না যে এটি চরম মিথ্যে। অজান্তে তাঁরা এভাবেই ইসলামের ভুল চিত্র তুলে ধরছেন সবার সামনে। অথচ তাঁরা ভাবছেন এটি করে বুঝি পূণ্য হলো। তারা জানেন না যদি এসবেই আপনি সওয়াব পেতেন তাহলে ইসলামের মত একটি পূর্ণাংগ জীবন ব্যবস্থায় অবশ্যই এসবের কথা উল্লেখ থাকতো যে, আধুনিক কালে বা শেষ জমানায় এরকম কিছু পেইজ আসবে এবং তোমরা তাতে লাইক কমেন্ট শেয়ার দিয়েই পূণ্য কামিয়ে নিতে পারবে,জান্নাতে যেতে পারবে। . একটি পেইজ কিংবা ফেইক আইডি থেকে শুধুই হাজার হাজার লাইক পেতে কেউ একাজ করে না। তাদের উদ্দেশ্য অবশ্যই দৃষ্টি আকর্ষন করা।তবে শুধু সেজন্যই তারা এই পন্থা অবলম্বন করে না।ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামকে বিতর্কিত করা এবং অন্য ধর্মের কাছে খারাপভাবে একে উপস্থাপন করাটাও এদের একটা উদ্দেশ্য।এছাড়া মানুষকে ইসলামের আসল শিক্ষা থেকে দূরে রেখে ধর্মপ্রাণ মানুষকে যারা স্বল্প শিক্ষিত কিংবা প্রযুক্তিতে এগিয়ে নেই অথচ ফেইসবুক চালাতে জানেন এমন মানুষদেরকে টার্গেট করেই এসব করছে ওরা। এদের উদ্দেশ্য অনেক সুদূরপ্রসারী। এদের মূল উদ্দেশ্যটি হলো, মানুষকে ইসলামের কাছ থেকে দূরে রাখা এবং ভুল পথে পরিচালিত করা বিশাল সংখ্যক মুসলিমদেরকে। যেন তারা অশিক্ষিত থেকে যায় এবং সত্যিকারের শিক্ষা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারে। এসব পেইজের অ্যাডমিনগুলো বেশীরভাগ নাস্তিক এবং বিধর্মী।
অনেক অনেকদিন আগে একটি লেখাতে দেখেছিলাম, বাংলাদেশে হঠাত করে এত নাস্তিকের এবং ইসলাম বিরোধীদের আধিক্য কেন? এরকম শিরোনামে একটি লেখা। এবং সেখানে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দিয়ে দেখানো হয়েছিলো। মূলধারায় যারা লেখালিখি করেন এবং শিক্ষিত তাদের ব্যাপার তো আছেই। এরপর যখন শিক্ষিত মুসলিমেরা এই নাস্ত্যক্যবাদের বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করলেন এবং যখন তারা বুঝে ফেললো এভাবে ইসলাম থেকে দূরে সরানো যাচ্ছে না এদেরকে, শিক্ষিত মুসলিমেরা কলম ধরেছেন, তখন তারা এই রেডিও পথ এবং হিজাবী রমনী পথ গ্রহণ করলেন। ইসলামকে ব্যাবহার করেই মুসলিমদের অন্ধ করে রাখা। একটি সম্প্রদায়কে, ইসলামিক প্রজন্মকে ধ্বংস করতে এর চাইতে ভালো উপায় আর নেই।

এদের বিরুদ্ধে সচেতনতা জরুরী। নইলে আমরা একটি অশিক্ষিত এবং ভুল ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্ম পেতে যাচ্ছি যারা ইসলামের দাওয়াত দিতে গেলে এইসব ফেইক ছবির ব্যবহার ছাড়া আর কিছুই জানবে না এবং তখন মানুষ এদেরকে প্রত্যাখ্যান করে আদতে ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করবে। তারা ধরেই নেবে এটাই বুঝি ইসলাম এবং এটি অন্তঃসারশূন্য একটি ধর্ম। গোঁড়ামিতে আর অশিক্ষায় ভরপুর। সুতরাং সাবধান হওয়া জরুরি।
তাই সবাই একটু সতর্ক হোন। এইসব পেজে লাইক কমেন্ট দেয়া থেকে বিরত থাকুন। লাইক,কমেন্ট, শেয়ার দিয়ে ওদের প্রচারণার অংশ হবেন না। . এগুলা দেখামাত্র রিপোর্ট করেন,পারলে শেয়ারকারীকে ব্লক মারেন।

…….লেখা সংগৃহিত ।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4630 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2664 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০