শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম, স্লাইডার

বঙ্গবন্ধু যেদিন কৃষ্ণনগর হাইস্কুল মাঠে এসেছিলেন

জামিল মাহমুদ | মঙ্গলবার, ০৭ মার্চ ২০১৭ | পড়া হয়েছে 11618 বার

বঙ্গবন্ধু যেদিন কৃষ্ণনগর হাইস্কুল মাঠে এসেছিলেন

মরহুম একে রফিকুল হোসেন খায়ের মিয়া। ১৯১৫ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষীপুর গ্রামের পীরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর সহপাঠী ছিলেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আপন দুইভাই বরকত মিয়া এবং হাসনাত মিয়া। তখনই হোসেন শহীদ সরোয়ার্দী’র কাছে তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি। ১৯৪৩ সালে খায়ের মিয়া ও তাঁর দুইভাই পূর্ব বাংলা ছাত্র সংগঠনের সদস্য হন।

হুসেন শহীদ সোহরাওয়াদী ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি। সেসময় আরও তিনজন ছিলেন। তার দুইভাই আর তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। তিনি পরবর্তীতে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৪৩ সালে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় কলকাতার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ১৯৪৬ সালে হোসেন শহীদ সরোয়ার্দীর বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার কাউন্সিলর মনোনীত হন খায়ের মিয়া, চট্টগ্রামের কাউন্সিলর ছিলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী আর ঢাকা কাউন্সিলর ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন। ১৯৪৮ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের আহবায়ক ছিলেন মাওলানা হামিদ খান ভাষানী। দ্বিতীয় যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন খায়ের মিয়া আর তৃতীয় যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি (খায়ের মিয়া) সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগের ব্রাক্ষণবাড়িয়া মহকুমার কমিটি দেন। আর এ কমিটিই ছিলো পুরো বাংলাদেশের প্রথম মহকুমার কমিটি। তার হাত ধরেই আওয়ামী মুসলিম লীগের যাত্রা শুরু হয়।


১৯৫০ থেকে ১৯৫১ সালের কোনো একসময় জমিদারী প্রথা বাতিল এবং খাদ্য সমস্যা সয়ংসম্পূর্ণ করার দাবিতে ব্রাক্ষণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার হাইস্কুল মাঠে পূর্ববাংলায় তিনিই প্রথম সমাবেশ করেন। আর তখন বৃহত্তর কুমিল্লার ব্রাক্ষণবাড়িয়া সিলেট ভৈরব থেকে প্রচুর লোক এসেছিলো এ সমাবেশে।

ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লোকে লোকারণ্য ছিলো পুরো কৃষ্ণনগর। বক্তব্য দিয়েছিলেন খায়ের মিয়া। রসিক বক্তা ছিলেন তিনি। তার বক্তব্য মানুষের কাছে গল্প শুনার মতো মনে হতো। আর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিলো শিহরণ আর জাগরণের। তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত এ কে রফিকুল ইসলাম (খায়ের মিয়া)। ঢাকা থেকে প্রথমে ভৈরব এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। তারপর নৌকা করে খায়ের মিয়ার বাড়ি। তাঁর পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কটা ছিলো একান্তই পারিবারিক। সেখান থেকে পাগলা নদীর পাড় ধরে পায়ে হেঁটে রওয়ানা দিয়েছিলেন। সমাবেশ শেষে খায়ের মিয়ার বাড়িতে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। রাত কাটিয়েছেন। রাতে গানের আসর ছিলো। গান গেয়েছিলেন সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্বাস আলী।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এসব ভালো করেই জানেন। এম এ খায়ের এর যোগ্য উত্তরসূরী কানাডার রিফরম পার্টির মেম্বার এ কে দেলোয়ার হোসেন দিপু। ১৯৫৪ সালের অত্র এলাকার নির্বাচিত এমএলএ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তাঁর বাড়িতে আশ্রয় দেন। পাকিস্তান বিরোধী সায়ত্ব শাসনের তিনিই প্রথম প্রস্তাব উত্থাপন করেন। নবীনগর বাইশমৌজার রুপকার এলাকার উন্নয়নের জন্য অনেক পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তীতে অনেক বছর অসুস্থ্য থাকার পর ১৯৭৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পরলোক গমন করেন। ১৯৭১ সালে দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধ তখন। বৃহত্তর বাইশমৌজা এলাকায় হানাদার মুক্ত হয় তার নেতৃত্বে। তার বাড়িতে আশ্রয় নেন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমানুল্লাহ আমান এবং ভৈরবের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাইনুর মিয়া।

লেখক, ফিচার প্রতিবেদক (ক্যাম্পাস) দৈনিক কালের কণ্ঠ

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 7195 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 4057 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১