শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

বাবা মায়ের হাতে সন্তান খুনের ঘটনাগুলো নিরাপদ থাকার আশ্রয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে

এস এ রুবেল | মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৭ | পড়া হয়েছে 6458 বার

বাবা মায়ের হাতে সন্তান খুনের ঘটনাগুলো নিরাপদ থাকার আশ্রয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে

সন্তান নাকি বাবা মায়ের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ। ইদানীং কিছু ঘটনায় এবিষয়টি এখন প্রশ্ন জাগাচ্ছে। আসলেই কি সকল সন্তান তাদের বাবা মায়ের আশ্রয়স্থলে নিরাপদ থাকতে পারছে? জাতীয় দৈনিকগুলো হাতে নিলেই এর উত্তর পাওয়া যাবে। পরকিয়া,অভাব অন্টন,পারিবারিক কলহ সহ নানান কারনে বাবা মা তাদের আদরের সন্তানদের প্রানে মেরে ফেলছে। মানসিক ভারসম্যহীন ছাড়াও সুস্থ মস্থিস্কের অনেকে নিজ সন্তান হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে বলে খবরে প্রকাশিত হচ্ছে। এমন ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে।
নবীনগরেও গত ১ মাসে বাবার হাতে সন্তান হত্যার দুটি ঘটনা ঘটেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা দক্ষিন পাড়া এলাকায়, ঘটনার বিবরনে জানা যায়, দুই বছরের শিশু মোড়ায় বসতে গিয়ে ব্যাথা পেয়ে চিৎকার দিলে কান্না থামাতে ধমক দেয় বাবা, পরে থাপ্পর দিলে কান্নার মাত্রা বেড়ে যায়। সেকারনে বাবা তার কোলের শিশুটিকে ঢিল ছুড়ে ফেলে দিলে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাসস্থলেই ওই শিশুটি মারা যায়।
পরের ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জানুয়ারি নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর গ্রামে। সাজাহান মিয়া নামে এক ব্যাক্তি নিজ হাতে পুত্রকে নৃশংসভাবে হত্যার কথা স্বীকার করলে পুলিশ লাশ উদ্ধারের পরদিন ওই ঘাতক পিতাকে আটক করে। পুলিশ লাশ উদ্ধারের আগেই স্থানীয় এক সুত্রে খবর পায় ১০ বছরের এক কিশোরকে গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় কে বা কারা হত্যা করে গেছে। কুড়িঘর বিলে যখন মোজাহিদ নামে ওই শিশুর লাশ পরে ছিল তার মুখের দিকে তাকিয়ে আতকে উঠি। কতটা নির্দয় হলে এভাবে ১০ বছরের একটা ছেলেকে হত্যা করে ইট দিয়ে তার দুপাশের দাতের পাটি ভেঙ্গে ফেলা যায়, চোখে ইট দিয়ে আঘাত দিয়ে তা ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ছবিটার দিকে তাকিয়ে ভাবি, ৯ কিবা ১০ এ আর এমন কি বয়স। এ বয়সের একটা ছেলের প্রতি কার এমন শত্রুতা ছিল। যে ক্ষোভে স্পষ্ট বুঝা যায়, তার গলায় লম্বা দড়ি দিয়ে ফাস লাগিয়ে হত্যা করে টেনে অনেকটা পথ এনে এমন ভাবে আঘাত করা হয়েছে, তাকে দেখে চেনার কোন উপায় নেই। গানের একটা কলিতে আছে, মরারে আর মারবি কত তর কি দয়া মায়া নাই। দয়া মায়া যার নেই সে তো পাষাণ। আর সেই পাষান মানুষটির বুকে মাথা রেখে মোজাহিদ কতদিন ঘুমিয়েছে হিসেব নেই। নিরাপদ আশ্রয় ছিল যার বুক, যার হাত ধরে হাটতে শিখেছে সে গত পরশুদিন সন্ধ্যায় সে মানুষটি নিজ হাতে মোজাহিদের প্রানপ্রদিপ নিভিয়ে নিষ্প্রাণ দেহটি দরি লাগিয়ে টেনে নিয়েছে বিলের মাঝখানে। জনমানবশূন্য পরিবেশ ছিল ঠিকই। আশেপাশে তখনো ছিল ঝিঝি পোকার ডাক। সেখানে বসেই বাবা নামক প্রিয় মানুষটি ইট দিয়ে থেতলে দিয়েছে নিজের পুত্রের মুখখানি। আচ্ছা মোজাহিদ কি বাবার কাছে বেচে থাকার আকুতি করেছিল। নাকি সে মেনে নিয়েছিল পৃথিবীতে আসার পেছনে বাবার অবদানের দক্ষিণা নিয়ে নিচ্ছে। যেদিন মোজাহিদের লাশ উদ্ধার হল, সেদিনই জানতে পেরেছিলাম মোজাহিদের বাবা নাকি এর আগেও তার দুই সন্তানকে নিজ হাতে হত্যা করেছে। বিষয়টা তখনো খটকা লাগায় বিস্তারিত আসছে…. লিখে শেষ করেছিলাম। শেষটা যে ঘাতক পিতা পুলিশের হাতে আটক দিয়ে শেষ হবে তখনো ভাবিনি।

img061লেখক- সম্পাদক, নবীনগর টয়েন্টি ফোর ডটকম


Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4786 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2928 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১