শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

বীরগাওয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক’শ নারী পুরুষ

ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1973 বার

বীরগাওয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক’শ নারী পুরুষ

নির্বাচনোত্তর সহিংসতার জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর বীরগাও ইউনিয়নের কয়েক’শ নারী পুরুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। জমির ফসল কাটতে বাধা দিচ্ছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ফলে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে শত শত একর জমির ধান ও বাদাম। গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যাওয়া বন্ধ। দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে একটি পক্ষের লোকজন।

গত ৩১ শে মার্চ অনুষ্ঠিত হয় এই ইউনিয়নের নির্বাচন। নির্বাচনের পরদিন বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের কবির আহমেদ মিছিল বের করলে সুত্রপাত হয় ঘটনার। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস  প্রতীকের কবির আহমেদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটে এবং অস্ত্র দিয়ে গুলি করা হয়। এতে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয়পক্ষের অর্ধশত লোক আহত হয়। ৫ টি ঘরবাড়ি ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিজয়ী প্রার্থী কবির আহমেদ বাদী হয়ে ৪৮ জনকে আসামী করে নবীনগর থানায় একটি মামলা দেন। এই মামলা দায়েরের পর পুলিশের ভয়ে বীরগাও সরকার বাড়ির কয়েক’শ লোক গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। বাড়িতে থাকা নারীদেরও দেখানো হচ্ছে ভয়ভীতি। আতঙ্কে নারীদের অনেকেও গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ভয়ে যুবতী মেয়েদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে আসামী পক্ষের লোকজনের কয়েক’শ একর জমিতে ফসল কাটার সময় হলেও অভিযোগ বর্তমান চেয়ারম্যান কবির আহমেদের লোকজনের বাধাঁয় ধানকাটাও বন্ধ রয়েছে। জমিতে ধান কাটার জন্য শ্রমিকরা গেলে তাদের মারধর করে জমি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। দিনের বেলাতেও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মহড়া চলে। বীরগাও সরকার বাড়ির মনোয়ারা বেগম,সালমা বেগম,রৌশনারা,রোকেয়া বেগম সবার চোখেমুখে আতঙ্ক। তারা বলেন বিকেল হলেই ডরে মরি। কখন পুলিশ আসে,কখন কবির চেয়ারম্যানের লোকজন আসে। সালাম মিয়ার স্ত্রী জোবেদা বেগম বলেন- রাতে বাড়ির সব বেইডাইত (মহিলা) এক ঘরে তালা দিয়ে বসে থাকি। এরা ১৫/২০ জন বল্লম কিরিচ নিয়ে আসে। গ্রাম পুলিশ ফোরকান এসে বাড়িঘরে ঢুকে মহিলাদের হুমকী দেয় মহিলা পুলিশ আসছে বলে। ফোরকান ছাড়াও মতি, সালমান শাহ ও শফিক ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আশপাশের গ্রামের লোকজনও জানিয়েছেন চেয়ারম্যান কবির আহমেদের লোকজন দিনরাত অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। কিশোরপুর গ্রামের খুরশিদ মিয়া বলেন-আমি শনিবার ঐ গ্রামে কাজ করতে গিয়েছিলাম। তখন দেখেছি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে পুলাপান ঘুরাফেরা করতাছে। দূর্গারামপুর গ্রামের সফিউর রহমান বলেন নির্বাচন নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। তিলকিয়া থেকে ঐদিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পরই ঘটনা ঘটে। ঐদিন গুলি চালানোর জন্যে বিজয়ী চেয়ারম্যান কবির আহমেদের লোকজনকেই দায়ী করছেন সরকার বাড়ির লোকজন। তারা বলেন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে তারাই সরকার বাড়ির লোকজনের ওপর গুলি চালিয়েছে,ককটেল হামলা করেছে। এরপর তারাই আবার আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। কিন্তু থানা আমাদের মামলা নেয়নি।
মামলায় প্রধান আসামী করা হয় স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্ধিতাকারী আনারস প্রতীকের কবির হোসেনকে। অভিযোগ নির্বাচনে যারা কবির আহমেদের বিরোধীতা করেছেন,নির্বাচন করেননি মামলায় তাদেরকেই আসামী করা হয়েছে। ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেননা এমন লোকজনকেও আসামী করা হয়েছে এতে। মামলার ৬ নম্বর আসামী নজরদৌলত গ্রামের আসাদুজ্জামান,৯ নম্বর আসামী তার ভাই কামাল মিয়া,১০ নম্বর আসামী হাবিবুর রহমান ও তার পিতা ২২ নম্বর আসামী মোবারক ঘটনাস্থলে ছিলেন। হাবিবুর রহমান এ তথ্য দিয়ে বলেন তারপরও আমরা আসামী। অথচ তখন আমি আর আমার আব্বা ছিলাম বাইশমৌজা বাজারে আমাদের দোকানে। ঘটনা হয়েছে বীরগাওয়ে সেখানে মামলার আসামী আশপাশের গ্রামের মানুষ। যেমন নজরদৌলত গ্রামের আসাদ-কামাল দু-ভাইকে আসামী করা হয়েছে। মামলার ২ নম্বর আসামী করা হয়েছে আমির হামজাকে। আমির হামজা ঢাকায় ব্যবসা করেন। হাবিবুর জানান- ঘটনার খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে আসেন এবং তাদের লোকজনকে গুলি করে আহত করার অভিযোগে থানায় মামলা দিতে যান। থানায় গেলে কবির চেয়ারম্যান পুলিশ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করিয়ে ফেলে। কিন্তু ঐসময় থানায় এ গ্রামের ঘটনায় কোন মামলাও দায়ের হয়নি। গুলিতে আহত হন সরকারবাড়ির মনছুর ও শহিদুল। গুলিতে আহত মনছুর খানকেই কবির আহমেদ (ঘোড়া প্রতীক) তার মামলায় স্বাক্ষী করেছেন। বীরগাও গ্রামের লোকজন জানান- শহিদুল ও মনছুর আহত হন কবিরের লোকজনের গুলিতেই। তারেই আবার তারা স্বাক্ষী বানিয়ে মামলা দিয়েছে। বীরগাও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হোসেন সরকার বলেন- তাদের অত্যাচারের ভয়ে স্কুল কলেজের অনেক ছাত্র ছাত্রী এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র।
নির্বাচিত চেয়ারম্যান কবির আহমেদকে পাওয়া যায়নি এলাকায়। তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন আমরা আইন হাতে তুলে নেইনি। তারাই আইনের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমাদের ১৯ জন লোককে তারা আহত করেছে। আমরা মিছিল নিয়ে সরকার বাড়ির কাছে যাওয়ার পরই হামলা চালানো হয়।
এ ব্যাপারে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন- গ্রামের এই অবস্থা জানার পর আমি চেয়ারম্যানকে খবর দিয়েছি। অবস্থা এমন হলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। চেয়ারম্যানকে ধান কাটায় যেন কোন বাধার সৃষ্টি না করে সেব্যাপারেও বলা হয়েছে। তারা আদালতে মামলা দিয়েছেন। আদালত আদেশ দিয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে। আমরা তদন্ত করে দেখছি।


Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 26143 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১