শিরোনাম

প্রচ্ছদ আলোকিত জন, নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

প্রতিবারের মত এবারো নীরবে কেটে যাবে এ দিন

বীর প্রতীক শহীদ আবদুল লতিফের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামিকাল

মোঃ নিয়াজুল হক কাজল | রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2303 বার

বীর প্রতীক শহীদ আবদুল লতিফের ৪৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামিকাল

নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বীর প্রতীকে ভূষিত শহীদ আবদুল লতিফ।  এবং ২৪ অক্টোবর সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর বাবার নাম লিল মিয়া এবং মায়ের নাম গোলাপি খাতুন।
তিনি চাকুরিরত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ১৯৭১ সালে তাঁর পদবি ছিল হাবিলদার। তখন তাঁর রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল কুমিল্লা সেনানিবাসে। মার্চ মাসে এই রেজিমেন্টের বেশির ভাগ সদস্য সেনানিবাসের বাইরে মোতায়েন ছিল। তবে তিনি ছিলেন সেনানিবাসে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সেখান থেকে পালিয়ে যুদ্ধে যোগ দেন। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে যুদ্ধ করেন ২ নম্বর সেক্টরের মন্দভাগ ও সালদা নদী সাব-সেক্টরে।
১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার সীমান্তরেখায় বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্থায়ী কোনো ঘাঁটি ছিল না। নদীর পূর্ব পার মন্দভাগ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে। নদীর অপর পার মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে না থাকলেও তা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল না। কাছাকাছি বিভিন্ন স্থানে ছিল পাকিস্তানিদের অবস্থান। মাঝেমধ্যেই তারা সেখান থেকে সালদা নদীর পাড়ে আসত। অস্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থান নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নজরদারির চেষ্টা করত। তখন মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করতেন। যাতে তারা সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান না করতে পারে। কারণ, সালদা নদী ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই এলাকা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভারত থেকে ফরিদপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লার ভাটি এলাকায় অপারেশনে যেতেন। আবার ফিরতেনও ওই এলাকা দিয়ে। ২২ অক্টোবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বালুচ রেজিমেন্টের একটি বড় দল সালদা নদীর অপর পারে সমবেত হয়। তারা সেখানে বাংকার খনন করতে থাকে। এর কয়েক দিন আগে থেকেই তারা চেষ্টা করছিল মন্দভাগ দখলের। এ কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিনায়ক ধারণা করলেন, পাকিস্তানিরা যেকোনো সময় মন্দভাগ আক্রমণ করতে পারে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নির্দেশ দিলেন তা প্রতিহত করতে। নির্দেশ পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত প্রস্তুত হলেন। তাঁরা ছিলেন তিনটি দলে বিভক্ত। একটি দলে ছিলেন আবদুল লতিফ। ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল সালদা নদী রেলস্টেশনের পূর্ব দিকে পাহাড়ি এলাকায়, একটি দল সালদা নদী ও গুদামঘরের পশ্চিমে নদী অতিক্রম করে এবং অপর দল পাকিস্তানি সেনাদের পেছনে অবস্থান নেয়। তারপর তিন দিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সাঁড়াশি আক্রমণ করেন। তখন সেখানে ভয়াবহ এক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আবদুল লতিফ ছিলেন নদী অতিক্রমকারী দলে। তাঁরা সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কয়েকটি বাংকার ধ্বংস করেন। এরপর তিনি কয়েকজন সহযোদ্ধার সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছিলেন সামনে। তখন হঠাৎ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ছোড়া গুলিতে তিনি শহীদ হন।
মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্বের জন্য শহীদ আবদুল লতিফকে মরণোত্তর বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালের গেজেট অনুযায়ী তাঁর বীরত্বভূষণ নম্বর ৯২।

গ্রন্থনাঃ মোঃ নিয়াজুল হক কাজল,সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক।লেখক ও গবেষক।নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।০১৭৫৩৫৩১১৫৩।


Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ড.আকবর আলী খান

১২ মে ২০১৬ | 6976 বার

আমরা তোমাদের ভুলবনা

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 6372 বার

তুষার আব্দুল্লাহ

২৬ এপ্রিল ২০১৬ | 3046 বার

‘শেষ ব্যক্তি শেষ বুলেট’

২৯ নভেম্বর ২০১৮ | 1957 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১