শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

বীর বিক্রম শহীদ আবদুল মান্নানের ৪৫ তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী

মোঃ নিয়াজুল হক কাজল | বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 3264 বার

বীর বিক্রম শহীদ আবদুল মান্নানের ৪৫ তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বীর বিক্রম খেতাবধারী শহীদ আবদুল মান্নান।  ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর চট্রগ্রামের মনুঘাটে এক অসম যুদ্ধে শহীদ হন তিনি। ওই হিসাবে গত পরশুদিন ছিল আবদুল মান্নানের ৪৫ তম শাহাদাৎবার্ষিকী।
পাঁচ ভাই চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর বাবার নাম আবদুল লতিফ এবং মায়ের নাম রাবেয়া খাতুন।

১৯৭১ সালে আবদুল মান্নান পুলিশে চাকরি করতেন চট্টগ্রামে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। প্রতিরোধযুদ্ধ শেষে ভারতে যান। পরে যুদ্ধ করেন ১ নম্বর সেক্টরের ঋষিমুখ সাবসেক্টরে। বিভিন্ন স্থানে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। বেশির ভাগ যুদ্ধ বা অপারেশনেই তিনি অগ্রভাগে থাকতেন।
১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত মদুনাঘাটে একটি অপারেশনে নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল মান্নান। সাবস্টেশনের অবস্থান চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের উত্তর পাশে এবং হালদা নদীর পশ্চিম পাশে। এখানে তখন তিনটি বড় ধরনের ট্রান্সফরমার ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছিল পাকিস্তানি সেনা ও কিছু রাজাকারের দখলে। সাবস্টেশনের চারদিকে ছিল বাংকার। রাতে আবদুল মান্নানসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রওনা হন লক্ষ্যস্থলে। তাঁদের দলনেতা ছিলেন সুলতান মাহমুদ (বীর উত্তম)। রাতে অন্ধকার তেমন গাঢ় নয়। আবছা অন্ধকারে দূরের অনেক কিছু চোখে পড়ে। তাই সবাই সতর্ক। সবার আগে একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর পেছনে দলনেতা ও আবদুল মান্নান। তাঁদের পেছনে সহযোদ্ধারা। সারিবদ্ধভাবে সবাই এগিয়ে যান। তাঁদের কাছে ভারী অস্ত্র মাত্র দুটি। একটি আরএল (রকেট লঞ্চার) ও একটি এলএমজি। অন্যান্য অস্ত্র এসএমজি, স্টেনগান ও রাইফেল। আর কয়েকটি হ্যান্ডগ্রেনেড। তাঁরা সেদিন মদুনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রে (সাবস্টেশন) আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক অবস্থান ছিল মদুনাঘাটের অদূরেই। এর আগে তাঁরা বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় রেকি করেন। নির্ধারিত দিন মধ্যরাতে তাঁরা কেন্দ্রের ৫০-৬০ গজ দূরে অবস্থান নেন। রাত যখন তিনটা, তখন তাঁরা আর এল দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়েকটি রকেট ছোড়েন। নির্ভুল নিশানায় সেগুলো আঘাত হানে। তিনটি ট্রান্সফরমারেই আগুন ধরে যায়। পাকিস্তানি সেনারা সজাগই ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তারা আক্রমণ চালায়। চারদিকের বাংকার থেকে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা আক্রমণ করেন। গুলির খই ফোটে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। আবদুল মান্নান ও তাঁর সহযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ মোকাবিলা করেন। তুমুল যুদ্ধের একপর্যায়ে আবদুল মান্নান হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর বুকে কয়েকটি গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গে নিভে যায় তাঁর জীবন প্রদীপ। শহীদ হন তিনি। সেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে তিনি শহীদ ও দলনেতা সুলতান মাহমুদসহ তিন-চারজন আহত হন। মদুনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের অপারেশন ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিরাট এক সাফল্য। তখন এই অপারেশনের খবর স্বাধীন বাংলা বেতারসহ বিদেশি বেতার ও খবরের কাগজে ব্যাপক প্রচার পায়। অবশ্য এই সাফল্য ছিনিয়ে আনতে গিয়ে আবদুল মান্নান শহীদ হন। সহযোদ্ধারা আবদুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সমাহিত করতে পারেননি। তাঁর মরদেহ তাঁরা স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছে রেখে আসেন। তাঁরা মান্নানের মরদেহ ঐ গ্রামেই সমাহিত করেন।


গ্রন্থনাঃ মোঃ নিয়াজুল হক কাজল, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক। লেখক ও গবেষক। নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
তথ্যসূত্রঃ *উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25653 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০