শিরোনাম

প্রচ্ছদ জেলা সংবাদ, নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচন- নবীনগরে আওয়ামীলীগের সদস্য পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2939 বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচন- নবীনগরে আওয়ামীলীগের সদস্য পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা

আসন্ন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৬ সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারনা। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। নবীনগরে ৩টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে আওয়ামীলীগের নাম ঘোষনা করা হয়েছে। গতকাল (২৯/১১) উপজেলা পরিষদের হল রুমে আয়োজিত আওয়ামীলীগের এক বর্ধিত সভায় কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল।
এর আগে গত (২৫/১১) রাতে কেন্দ্রীয়ভাবে গনভবনে স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা শেষে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দল সমথির্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেন। এসময় আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক সভার সভাপতিত্ব করেন।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জেলা পরিষদ নির্বাচন। এখানে শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিগণ ভোট দিতে পারবে। জেলা পরিষদের নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য ও ৫ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর অংশ গ্রহনে ভোট গ্রহন হবে।
নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এর ঘোষিত দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন, এড. এমদাদুল বারী। এছাড়াও নবীনগরের ৩টি ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থীরা হলেন, ১১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীয়া সম্পাদক নাছির উদ্দিন।
১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ বোরহান উদ্দিন আহমেদ ।
১৩ নং ওয়ার্ডের দলীয় মনোনীত প্রার্থী উপজেলা ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য জসিম উদ্দিন।
এতে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১০,১১,১২ নং ওয়ার্ডে দলীয় মনোনীত প্রার্থী হলেন উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অধ্যাপক নুরুন্নাহার বেগম।
বিশ্বস্ত একটি সুত্র উক্ত নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি অংশ না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


কারা ভোটার হবেন জেলা পরিষদে

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মেয়র/চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর/সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর/সদস্য জেলা পরিষদের নির্বাচনমণ্ডলীর সদস্য/ভোটার হবেন।

এ বিষয়ে বিদ্যমান আইনের ১৭ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও সব কমিশনার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান ও সব কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সব সদস্যের সমন্বয়ে জেলার পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হবে।’ তবে উপজেলা পরিষদে দু’জন করে ভাইস-চেয়ারম্যান থাকলেও আইনটি প্রণয়নের সময় এ পদ দু’টি উপজেলা পরিষদ আইনে না থাকায় নির্বাচকমণ্ডলীতে তাদের উল্লেখ নেই। এক্ষেত্রে আইন সংশোধন করে এটা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে আইনে নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর/সদস্যের নাম স্পষ্ট করে বলা না থাকলেও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ মনে করেন সদস্য বলতে দুই ধরনের সদস্যইকে বোঝায়।

আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, সদস্য বলতে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য উভয়কে বোঝায়। কাজেই সব সদস্যই নির্বাচকমণ্ডলী বলে গণ্য হবে। তবে, সংশোধনের মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করলে ভালো হয়। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনটি যখন প্রণীত হয়, তখন উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান পদটি ছিল না। যে কারণে এটা আইনে উল্লেখ নেই। তবে শুনেছি আইন সংশোধন হবে। তখন অবশ্যই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদটিও নির্বাচকমণ্ডলীতে যুক্ত হবে।

সংসদ সদস্যদের নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য করার বিরোধিতা করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সদস্য। কিন্তু সংসদ সদস্যরাও তা নন। কাজেই স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার প্রক্রিয়া দ্রুত করা হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন আইনে জেলা পরিষদে একজন নারীসহ দু’জন ভাইস চেয়ারম্যানের পদও সৃষ্টি করা হবে বলে তিনি জানান। এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে কিনা—এ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

প্রার্থীদের ভোটাধিকার থাকবে না

জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তারা কোনও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য না হলে কোনও ব্যক্তি ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য হবেন না। আর আইনের অন্য একটি ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সদস্য বা অন্য কোনও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হলে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। অর্থাৎ অন্য কোনও সংস্থার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হলে যেমন ভোটার হওয়া যাবে না তেমনই কোনও সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হলে জেলা পরিষদে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে কেবল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ হিসেবে স্থানীয় সরকারের ৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৭ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি এই নির্বাচনে ভোট দেবেন।এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ভোটার হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। দেশে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৭১টি। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গড়ে ১৩ জন করে প্রায় ৬০ হাজারের মতো নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছে। এভাবে ৪৮৮টি উপজেলা পরিষদে প্রায় দেড় হাজার, ৩২০টি পৌরসভায় সাড়ে ৫ হাজার এবং ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রায় সাড়ে ৫০০ নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান

০৯ মার্চ ২০১৭ | 8605 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০