শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ভাষা সৈনিক এডঃ আহাম্মদ আলীর শেষ প্রয়াণ

ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২০ | পড়া হয়েছে 583 বার

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ভাষা সৈনিক এডঃ আহাম্মদ আলীর শেষ প্রয়াণ

নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের কাজলিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান ভাষা সৈনিক,মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এডঃ আহাম্মদ আলী আর আমাদের মাঝে নেই।

গতকাল ১০ জানুয়ারী দিবাগত রাতে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।( ইন্না-লিল্লাহ… রাজিউন)।


ভাষা সৈনিক এডভোকেট আহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে উপজেলায় সর্বস্তরের মানুষজনের মাঝে শোক নেমে আসে। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এডভোকেট আহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল, সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এম এ হালিম, নবীনগর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট শিব শংকর দাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমুহ,সামাজিক সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উনার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বিদেহীর আত্বার মাগফেরাত কামনা করেন।

—————————————————————-
অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী’র জীবন-বৃত্তান্ত:
জন্ম : ১ জুলাই ১৯৩২
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ,ভাষা সৈনিক ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি পূর্বপাকিস্তানের গণপরিষদ নির্বাচনে বৃহত্তর কুমিল্লা-৫ আসনের (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) এমএলএ ছিলেন। কুমিল্লা জেলায় প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী হিসেবে পরিচিত। রাজনীতি বিষয়ক তার লেখা একাধিক বই প্রকাশ হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী ১লা মার্চ ১৯৩২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কাজলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে কুমিল্লা নগরীর বাগিচা গাঁওয়ের বসবাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার নয় সন্তানের মধ্যে ৫জন মেয়ে এবং ৪জন ছেলে।
আহমেদ আলী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে শেখ মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেছেন, দেশের পূর্ব- দক্ষিণাঞ্চলে গেলে তিনি আহেমদের বাসায় বিশ্রাম নিতেন। বঙ্গবন্ধু সেখানে আইনজীবী ও ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সক্রিয় কর্মী অতিন্দ্রমোহন রায়ের সাথে গল্প করে সময় কাটাতেন। সে থেকেই আহমেদ আলীর পারিবারিক বাসস্থান কুমিল্লা অঞ্চলের প্রাচীন রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।বৃত্তহত্তর কুমিল্লাজেলা আওয়ামী লীগের প্রথম প্রশাসক ও ১৯৫৩ সালে কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন।১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের গণপরিষদ নির্বাচনে বৃহত্তর কুমিল্লা-৫ আসনের (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) নির্বাচিত এমএলএ হন। তার এ পদটি ১৯৭১ সালে মেম্বার অব কনস্টিটিউশন এডমিনিস্ট্রেটর (এমসিএ) হিসেবে রূপান্তরিত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে আহমেদ আলী বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে কুমিল্লা জেলা পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত তিনি প্রথম মুক্তির বিজয়ী পতাকা উত্তোলন করেন। কুমিল্লা জেলার বার কাউন্সিলের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ঢাকা বার কাউন্সিলের প্রথম নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন আহমেদ আলী।

উনার রচনাকৃত উল্লেখযোগ্য প্রন্থ হলো-
:আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ইতিকথা
:সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জীবন ও সাধনা
:স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 26143 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১