শিরোনাম

প্রচ্ছদ আলোকিত জন, নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

নবীনগরের ভোলাচংয়ের অতীন্দ্রমোহন রায়ের ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী হয়ে উঠার গল্প

জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন | শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 398 বার

নবীনগরের ভোলাচংয়ের অতীন্দ্রমোহন রায়ের ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী হয়ে উঠার গল্প

ভোলাচং গ্রামের জমিদার আনন্দমোহন রায় চৌধুরীর ছেলে অতীন্দ্রমোহন রায় চৌধুরী। তিনি অতীন রায় নামেই সর্বাধিক পরিচিত। জন্ম ১৮৯৪ সালে ভোলাচং গ্রামে। হাই স্কুলে পড়ার সময় তিনি বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের যোগ দেন। ১৯১১ সালে গোপন বিপ্লবী দল অনুশীলন এর সদস্য হন। ভিক্টোরিয়া কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে বিপ্লবী কর্মকান্ডের দায়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে এবং সে সঙ্গে তাঁর পরবর্তী পড়াশুনার পথও বন্ধ হয়ে যায়।

১৯১৬ সালে পলাতক জীবনের শুরু। ঢাকার কলতা বাজারে দু’জন পুলিশ হত্যা ও কলকাতার উঝচ বসন্ত চ্যাটার্জি হত্যাকান্ডের আসামী ছিলেন। দেশের বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করা, বাংলায় কর্মরত ব্রিটেনের ধনী কর্মকর্তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে ও ডাকবিভাগ এর ব্যাগ ছিনতাই করে বিপ্লবের জন্য পুঁজি সংগ্রহ করতেন। প্রভৃতি কাজে সক্রিয় থাকার দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে তাঁকে প্রায় পঁচিশ বছর কারাবাস করতে হয়েছিল।


অতীন্দ্র রায় একটি গোপন বিপ্লবী দল গড়ে তুলে সদস্যদেরকে ত্রিপুরার উদয়পুরে অস্ত্র চালনার মাধ্যমে সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য প্রস্ত্তত করতেন। একই সঙ্গে অন্যান্য সশস্ত্র বিপ্লবী দলের সমন্বয়ে সমগ্র ভারতব্যাপী একটি বিপ্লবী আন্দোলনের প্রস্ত্ততি নিতে থাকেন। কিন্তু তাঁর এ পরিকল্পনা প্রকাশ হয়ে গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অনেককেই পুলিশ আটক করে ডিটেনশনে পাঠায়। অতীন্দ্র রায় পালিয়ে গোপন আস্তানায় চলে যেতে সক্ষম হলেও ১৪ মাস পরে পুলিশ তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয়। বিচারের রায়ে তাঁর ২৪ বছরের জেল হয়।

তিনি নেতাজি সুভাষ বসুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। আজন্ম বিপ্লবী অতীন্দ্র মোহন রায়ের বিপ্লবী কর্মকান্ড সমগ্র ভারতবর্ষে তখন এত বেশী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল যে তৎকালীন সাহিত্য কর্মেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। বলা হয়ে থাকে যে, সশস্ত্র বিপ্লবী অতীন্দ্র রায়ের অনুরক্তিতে মুগ্ধ হয়ে কথা সাহিত্যিক তারাশংকর তাঁর ‘গঙ্গা-দেবতা’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের ‘যতীন’কে অতীন্দ্র রায়ের প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছেন। এমন কি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাসের মূল চরিত্র অতীন (অতীন্দ্র মোহন রায়) এর সন্ধান পাওয়া যায়।

১৯৪২ সালে অতীন রায় কারাবাস থেকে মুক্তিলাভ করেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী তার পুত্র অসীম রায়কে কুমিল্লা সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এরপর থেকে অতীন্দ্র রায় বই-পুস্তক পড়ে কুমিল্লার বাগিচ গাঁয়ে একটে টিনের ঘরে নিসঙ্গ জীবন অতিবাহিত করতেন।
১৯৭৯ সালে তিনি মৃত্যুবরন করেন। তাঁর প্রতি রইল অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

ছবি সংগ্রহ ও গ্রন্থনাঃ জোবায়েদ আহাম্মদ মোমেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ড.আকবর আলী খান

১২ মে ২০১৬ | 7328 বার

আমরা তোমাদের ভুলবনা

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 6785 বার

তুষার আব্দুল্লাহ

২৬ এপ্রিল ২০১৬ | 3434 বার

‘শেষ ব্যক্তি শেষ বুলেট’

২৯ নভেম্বর ২০১৮ | 2583 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১