শিরোনাম

প্রচ্ছদ আলোকিত জন, নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য দানশীলতার এক গৌরব ব্যক্তিত্ব

ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ১৭ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 600 বার

মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য দানশীলতার এক গৌরব ব্যক্তিত্ব

তৎকালীন ত্রিপুরার রাজ্যের ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার নূরনগর পরগানার নবীনগর থানার বিটঘর গ্রামে ১৮৫৮ সালে জন্ম নেন পরবর্তী কালের এক আলোচিত ব্যাক্তিত্ব কর্মযোগী মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি ১৯৪৩ সালে পরলোকগমন করেন। তাঁর পিতার নাম ঈশ্বর চন্দ্র তর্ক সিদ্ধান্ত,মাতার নাম রামমালা দেবী।

মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ১২৮৬ বাংলায় কুমিল্লা জিলা স্কুলে দশম শ্রেণিতে ছাত্রাবস্থায় ভাগ্যনবষনে বেরিয়ে পড়েন। প্রথমে তিনি কলকাতা বন্দরে শ্রমিকের কাজ করেন। সেখানে তিনি পাচক হিসাবে যোগ দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ব্যবসার সফলতার সাথে দান এবং ধ্যনের দিকে আগ্রহী হন।


তিনি কলকাতায় এম ভট্টাচার্য এন্ড কোং নামে কোম্পানী করে নানবিধ ব্যবসায় শুরু করেন সারা ভারত জুড়ে। এমনকি নিজ জেলা কুমিল্লা শহরেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েতুলেন এবং বিপুল ধনসম্পদের অধিকারী হন।
দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া না করতে পারা এই ব্যক্তি বৈষয়িক উন্নতির চেয়ে জ্ঞানচর্চার উন্নতিকেই তিনি মানুষের মুক্তির প্রকৃত উপায় হিসেবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। তাই নিজের আয়ের অর্ধেক নিয়মিতভাবে তিনি দান করে গেছেন প্রজন্মের শিক্ষাবিস্তারের পেছনে। এমনকি তাঁর কুমিল্লার সম্পত্তি, ব্যবসা—সবই দান করে গেছেন শিক্ষাজ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখতে।
তিনি কুমিল্লায় সেই আমলে যা করে গেছেন, অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর প্রচারণার প্রয়োজন ছিল। জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য হলেও। ভারতের কাশিতেও আছে তাঁর আনুকূল্যে গড়ে ওঠা বিদ্যাপীঠ (১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত)। নিজের এই ঔদার্যের কথা তিনি কাউকে জানতে দিতে চাননি। সে কারণেই হয়তো আজও বাংলাদেশের মানুষ তাঁর সম্পর্কে অবগত নয়।

মহান এই ব্যক্তির নামানুসারে নিজ গ্রামে বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে

কুমিল্লায় ঈশ্বর পাঠশালা, দাতব্য চিকিৎসালয়, মায়ের নামে গড়ে তোলা রামমালা গ্রন্থাগার, রামমালা ছাত্রাবাস, নিবেদিতা ছাত্রীনিবাস ইত্যাদি আজও আলো ছড়িয়ে চলেছে সরকারি-বেসরকারি কোনো রকম সহায়তা ছাড়াই।
তাঁরই প্রতিষ্ঠা করা ট্রাস্টির বর্তমান সদস্যরাই এ সবকিছুর তত্ত্বাবধান করেন। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের যাবতীয় খরচ বহন করে ট্রাস্ট।

উপমহাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ধর্মচর্চার অবাধ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল মহেশাঙ্গন।
সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে সন্দেহ জেগেছে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে। শিক্ষা বিষয়ে মহেশ চন্দ্রের নিজস্ব দর্শন ছিল। তিনি মনে করতেন, একমাত্র শিক্ষাই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে, করে তুলতে পারে আত্মনির্ভর। ইন্দ্রকুমার সিংহের কর্মযোগী মহেশ চন্দ্র ও কুমিল্লা মহেশাঙ্গন গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মহেশ চন্দ্র ‘স্বাবলম্বন’ কথাটিকে অন্তরের স্বাধীন ভাব হিসেবেই বুঝতেন এবং সেই স্বাধীন ভাব অর্জনের পরম উপায় হিসেবে শিক্ষালাভ করা ও জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখাকে অবিকল্প মানতেন।
মহেশ চন্দ্র তাঁর নিজের কোনো কথাই লিপিবদ্ধ করে যাননি। তাঁর একমাত্র গ্রন্থ আত্মকথায় তিনি তুলে ধরেছেন ব্যবসায় সাফল্য লাভের বিবরণ। এটাও তিনি করেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠা লাভ সম্পর্কে নানা অলৌকিক অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য।

কীর্তিমান এ ব্যক্তি সম্পর্কে আরো জানতে

নিজ বাড়ীর পাশে মেয়েদের জন্য একটি বালিকা বিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যদিও সঠিক পরিচালনা না হওয়ায় বর্তমানে স্কুলটি বিলুপ্ত। উক্ত স্কুলটির সকল আসবাব পাশের কাইতলা হাইস্কুলে স্থানান্তর করা হয়। কাইতলা হাইস্কুলটি ও মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের আর্থিক অনুদানে প্রতিষ্ঠিত। তাছারা লাউর ফতেহপুর গ্রামের কে কে উচ্চবিদ্যালয় এবং কসবা উপজেলার অবেক স্কুল মহেশ চন্দ্রের আর্থিক অনুদানে প্রতিষ্ঠিত। বিটঘর রাধানাথ হাইস্কুলটি মহেশ চন্দ্রের অধিকাংশ অর্থ ব্যায়ে নির্মিত হলেও ততকালীন জমিদার তার আত্মীয় রাধানাথ রায় চৌধুরীর নামে নামকরন করেন। সত্যি বলতে সমগ্র দেশে ততকালীন জমিদারদের প্রজা নিপীড়ন এবং অত্যাচারের যে ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে বিটঘরের জমিদাররাও তা থেকে নিবৃত ছিলোনা। একজন সাধারণ প্রজা হয়ে মহেশ চন্দ্র জনকল্যাণে প্রভূত কাজ করে যাচ্ছে এতে জমিদাররা বিব্রত ছিলো, যার ফলে নিজ গ্রাম বা এলাকায় মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ইচ্ছা থাকা সত্বেও বেশী কাজ করতে পারেননি।

কুমিল্লার মহেশাঙ্গণ স্বাধীনতার আগে এটাই ছিলো পূর্ব বঙ্গের শান্তিনিকেতন। ———————
সমগ্র উপমহাদেশ জুড়ে কুমিল্লার মহেশাঙ্গণ একটি ব্যতিক্রমী ইতিহাস। মহামূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে মহেশাঙ্গণ ইতিহাসের এক বিরাট সম্পদ। অথচ বর্তমান সময়ে এই মহেশাঙ্গণ বিস্মৃত প্রায়, সারা দেশের মানুষ জানেনা বললেই চলে।
মোট ৮ একর জমির উপর এই প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। বর্তমানে ১০-১১টি প্রতিষ্ঠানের কমপ্লেক্স এই মহেশাঙ্গণ। যা দু’বাংলা মিলিয়ে একটিই মাত্র।
এখনও একটি ট্রাষ্টি বোর্ডের অধীনে সরকারী সাহায্য ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
এখানেই তৎকালীন কুমিল্লার সভা-সমিতি, সংগীত ও বিচিত্র ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। মহেশ ভট্টাচার্য রামমালাকে মূলত একটি কমপে­ক্স হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন, এখানে যেসব গুণী ব্যক্তিদের পদার্পণ ঘটেছে নিম্নে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হলো।

মহাত্মা গান্ধী, সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধধায়,নৃপেন বসু, বিপিন পাল, চিত্তরঞ্জন দাশ,যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সিসি রায়, সুভাষ চন্দ্র বসু, অরবিন্দ ঘোষ, কস্তরীবাই গান্ধী, মৌলভী লিয়াকত হোসেন, রাজা গোপাল আচারিযা,শ্যামাপ্রসাদ মুখোপারধায়,ড.দিনেশ চন্দ্র সেন, সরলাদেবী চৌধুরানী, নরেন্দ্রনাথ দেব,ড. নলিনী ভট্টশালী,বিভূতিভূষণ মুখোপারধায়, শরৎ চন্দ্র বসু, শরৎ চন্দ্র চট্টপারধায়, কাজী নজরুল ইসলাম, ক্ষিতিমোহন সেন, কালীমোহন ঘোষ, মহারাজা মহীন্দ্র চন্দ্র নন্দী, আশ্রাফ উদ্দীন চৌধুরী, ত্রিপুরার মহারাজা মাণিক্য বাহাদুর, সরোজিনী নাইডু, হেমপ্রভা মজুমদার, মহেন্দ্র নাথ দাস, ভীম ভবানী,রাম মূর্তি, এ,ভি থ্যাককার,প্রাণগোপাল গোস্বামী, রাম দাস বাবাজী, ভোলানাথ গিরি, আলোক বাবা, মা আনন্দময়ী, শশিভূষণ বিদ্যালংকার,পারিমোহন ভট্টাচার্য, ডাবলিউ এম ক্লার্ক, বিধূশেখর শাস্ত্রী, ড . নীহার রঞ্জন রায়, ড . ধীরেন্দ্র নাথ সেন, ড . সুধীর সেন, সীমান্ত গান্ধী আবদুল গাফ্ফার খান, আইসিএস আলী ব্রাদার্স, মেজর এসি চ্যাটার্জি প্রমুখ।

মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য কুমিল্লার দরিদ্র ছাত্র ছাত্রীদের বিনামূল্যে থাকার আবাস ও পড়ালেখার ব্যাবস্থা করেছিলেন এই মহেশাঙ্গন ও ততসংলগ্ন শাকতলায়।
অমানুষিক পরিশ্রম করে যে ধন সম্পত্তি অর্জন করেছেন তা কুক্ষিগত করে রাখেননি। দরীদ্র সেবা, জনহিতকর কাজ, প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে জাতি গঠনের লক্ষে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও অজস্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান প্রধান তার যে বিশুদ্ধ বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের পরিচয় পাওয়া যায় তা সে যুগে ছিলো অত্যন্ত বিরল। এক কুমিল্লার শাকতলাতেই ২৪ একর জমির উপর ছাত্রাবাস নির্মাণ করেন। তিনি এতটাই দানশীল ছিলেন যে দান সম্পর্কে নিজস্ব নীতিরীতি প্রণয়ন করেন।গোপনে দান করা ছিলো নীতিগত কাজ। আত্মপ্রচারকে আত্মহত্যার শামিল মনে করতেন। ডান হাত কি দান করছে তার বাম হাত যেন না জানে এমনই ছিলো তার নীতি। এই জন্য মহেশ চন্দ্রের অজস্র জনহিতকর কাজ সম্পর্কে অজানাই রয়ে গেছে।
কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ, শিক্ষা বোর্ড, কলিকাতা হিতৈষী পত্রিকার মুদ্রিত সংস্থা প্রেস সহ অগনিত প্রতিষ্ঠান তার দানে সমৃদ্ধি লাভ করে।
মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর চরিত্র কুমিল্লার মহেশাঙ্গণ স্বাধীনতার আগে এটাই ছিলো পূর্ব বঙ্গের শান্তিনিকেতন।
সমগ্র উপমহাদেশ জুড়ে কুমিল্লার মহেশাঙ্গণ একটি ব্যতিক্রমী ইতিহাস। মহামূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে মহেশাঙ্গণ ইতিহাসের এক বিরাট সম্পদ। অথচ বর্তমান সময়ে এই মহেশাঙ্গণ বিস্মৃত প্রায়, সারা দেশের মানুষ জানেনা বললেই চলে।

..মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্যের অনুদানের কাজ সমুহ..
👉ঈশ্বর পাঠশালা- ১৯১২
👉ঈশ্বর পাঠশালা ব্যায়ামাগার
👉রামমালা গ্রন্থাগার ১৯১৬
👉ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল ও রীচ হোষ্টেল- ১৯১৪
👉রামমালা ছাত্রাবাস-১৯১৬
👉নিবেদিতা ছাত্রী নিবাস-১৯১৯
👉নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়-১৯১৯
👉রামমালা জাদুগর
👉রামমালা রোড(রাণীর বাজার থেকে শাকতলা)
👉রামমালা পোষ্ট অফিস
👉এম ভট্টাচার্য এন্ড কোং
👉বৈদিক ঔষধালয়
👉 কাশী হরসুন্দরী ধর্মশালা
👉নাটমন্দির-১৯২৫
👉মন্দির -১৯১৭
👉 কসবা বিজলী নদীর উপর লোহার পুল
👉কাইতলা থেকে কুড়িঘর পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ কিঃ মিঃ মহেশ রোড
👉বিটঘর রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে আর্থিক অনুদান
👉 বিটঘরে বালিকা বিদ্যালয়( দক্ষ পরিচালনার অভাবে বর্তমানে বিলুপ্ত)
👉মহেশ রোড থেকে বিটঘর বাজার পর্যন্ত সংযোগ রাস্তা
👉কাইতলা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়
👉ফতেহপুর বিদ্যালয়ে অনুদান
👉চট্টগ্রামে সেবা আশ্রম
👉কলিকাতায় সেবা আশ্রম সহ অজানা অসংখ্য কাজ করে গিয়াছেন।

মহেশ চন্দ্র ভট্টাচার্য দানশীলতার এক গৌরব ব্যক্তিত্ব

কুমিল্লা শহরের নিরবে নিভৃতে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপকারে ব্যায় করে গেছেন লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা।
নিজের অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি দান করে গেছেন মানুষের কল্যাণে। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহন করার পরেও নিজ গুনে আয় করেছেন কোটি কোটি টাকা, যে টাকা তিনি ব্যায় করেছেন গরীব দুখী মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে। অথচ ইতিহাসের পাতা থেকে আমরা মুছে ফেলেছি তাঁর নাম”কতটা স্বার্থপর!

মহেশ ভট্টাচার্যের গ্রাম বিটঘর সুপ্রাচীনকাল থেকেই বিদ্যাশিক্ষায় অগ্রণী ছিল। কিন্তু শ্রী মহেশ ভট্টাচার্যের পরিবার দারিদ্র্য-পীড়িত ছিলেন বলে তিনি বিদ্যাশিক্ষার পরিবর্তে ভাগ্যান্বেষে শৈশবেই কুমিল্লা চলে আসেন। জানা যায়, মহেশ ভট্টাচার্য ভালো রান্না করতে পারতেন। কুমিল্লায় এসে তিনি প্রথমে কয়েকটি বাড়িতে পাচকের কাজ নেন। কিছুদিন পর এই কাজ করে তার হাতে কিছু টাকা-পয়সা জমলে তিনি স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানেও তাকে অর্থের অভাবে কয়েক বছরের জন্য লেখাপড়া বন্ধ করে রাখতে হয়। পরে তিনি বিভিন্ন কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু অর্থকড়ি রোজগার করেন এবং ‘ভট্টাচার্য অ্যান্ড কোং’ নামে একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান খোলেন। এবার তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। তিনি অনেক অর্থের মালিক হন। মূলত সে অর্থ দিয়েই তিনি মায়ের নামে নিবেদিতা স্কুল ও ঈশ্বর পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ছাত্রদের থাকার জন্য রামমালা ছাত্রাবাস নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে বিরাট একটি নাটমন্দির নির্মাণ করেন।

নিজের এই ঔদার্যের কথা তিনি কাউকে জানতে দিতে চাননি। সে কারণেই হয়তো আজও বাংলাদেশের মানুষ তাঁর সম্পর্কে অবগত নয়। অথচ কুমিল্লায় সেই আমলে তিনি যা করেছেন, অন্তত তাঁর মৃত্যুর পর সে তথ্য প্রচারণার প্রয়োজন ছিল জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য। কুমিল্লায় ঈশ্বর পাঠশালা, দাতব্য চিকিৎসালয়, মায়ের নামে গড়ে তোলা রামমালা গ্রন্থাগার, রামমালা ছাত্রাবাস, নিবেদিতা ছাত্রীনিবাস ইত্যাদি আজও আলো ছড়িয়ে চলেছে সরকারি-বেসরকারি কোনো রকম সহায়তা ছাড়াই। তাঁরই প্রতিষ্ঠা করা ট্রাস্টির বর্তমান সদস্যরাই এ সবকিছুর তত্ত্বাবধান করেন। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের যাবতীয় খরচ বহন করে ট্রাস্ট। উপমহাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ধর্মচর্চার অবাধ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল মহেশাঙ্গন। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পর মনে সন্দেহ জেগেছে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে। শিক্ষা বিষয়ে মহেশ চন্দ্রের নিজস্ব দর্শন ছিল। তিনি মনে করতেন, একমাত্র শিক্ষাই মানুষকে মুক্তি দিতে পারে, করে তুলতে পারে আত্মনির্ভর। ইন্দ্রকুমার সিংহের কর্মযোগী মহেশ চন্দ্র ও কুমিল্লা মহেশাঙ্গন গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মহেশ চন্দ্র ‘স্বাবলম্বন’ কথাটিকে অন্তরের স্বাধীন ভাব হিসেবেই বুঝতেন এবং সেই স্বাধীন ভাব অর্জনের পরম উপায় হিসেবে শিক্ষালাভ করা ও জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখাকে অবিকল্প মানতেন। মহেশ চন্দ্র তাঁর কোনো কথাই লিপিবদ্ধ করে যাননি। তাঁর একমাত্র গ্রন্থ আত্মকথায় তিনি তুলে ধরেছেন ব্যবসায় সাফল্য লাভের বিবরণ। এটা তিনি করেছেন ব্যবসায়ী হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠা লাভ সম্পর্কে নানা অলৌকিক অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে নিজের চিন্তাদর্শন প্রকাশ করাও তাঁর কাছে অহংকার প্রচারের শামিল ছিল। কাজের মধ্য দিয়েই প্রকাশ করেছেন নিজেকে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপীঠের শিক্ষক কেমন হবেন, শিক্ষার্থীরা কেমন হবেন, সমাজে তাঁরা কী অবদান রাখবেন—সবকিছু সম্পর্কেই তাঁর ছিল স্পষ্ট দিকনির্দেশনা, যা আজও পালন করার চেষ্টা করা হয় ঈশ্বর পাঠশালায়। মহেশ চন্দ্র তাঁর নিয়োগপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক রাসমোহন চক্রবর্তীর মাধ্যমে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম, দর্শন ও জ্ঞানচর্চার নানা ধরনের প্রকাশিত পুস্তক এবং বৃহত্তর কুমিল্লা, সিলেট অঞ্চল থেকে প্রায় আট হাজার হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে গড়ে তুলেছিলেন রামমালা গ্রন্থাগার। হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির মধ্যে প্রায় ছয় হাজার সংস্কৃত ভাষায় রচিত, বাকিগুলো বাংলায়। তুলট কাগজ, তালপাতা, কলাপাতা, কাঠসহ নানা উপাদানের পাণ্ডুলিপিগুলো আগ্রহীদের বিস্ময় জাগায়।

ইতিহাস : উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত “

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ড.আকবর আলী খান

১২ মে ২০১৬ | 6901 বার

আমরা তোমাদের ভুলবনা

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 6266 বার

তুষার আব্দুল্লাহ

২৬ এপ্রিল ২০১৬ | 2954 বার

‘শেষ ব্যক্তি শেষ বুলেট’

২৯ নভেম্বর ২০১৮ | 1822 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০