শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

ফেসবুকে লেখালেখির কারনে মাদক দিয়ে পুলিশে সোপর্দ অভিযোগ পরিবারের

| রবিবার, ১০ মে ২০২০ | পড়া হয়েছে 1374 বার

ফেসবুকে লেখালেখির কারনে  মাদক দিয়ে পুলিশে সোপর্দ অভিযোগ পরিবারের

“মাদক বিক্রেতা ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অনবরত লেখালেখি করায়, আমার ছেলেটাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে প্রচন্ড মারধর করে ইয়াবা দিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি এর সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সালেহা খাতুন (৬৮) আজ সন্ধ্যায় পুত্রকে ফিরে পেতে সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই ফেসবুকে বেশ লেখালেখি হচ্ছে।


শিক্ষিকা সালেহা খাতুন এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে এম এস কে মাহাবুব (৪০) নবীনগর লেখক ফোরামের সঙ্গে জড়িত ও সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে নিয়মিত ফেসবুকে লেখালেখি করে। বিশেষ করে নবীনগরের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধেই সে বেশী বেশী ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এতে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি মাহাবুবের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাহাবুবের ছোট বোন প্রাইমারী শিক্ষিকা উম্মে কুলসুম মিলি বলেন, আজ শনিবার বিকেল ৩ টার দিকে একজন ছেলে আমার বড় ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই দেখি তাকে কয়েকজন প্রচন্ডভাবে মারতে মারতে একটি অটো রিক্সায় তুলে নিয়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে জানতে পারি, সাত পিস ইয়াবা সহ আমার ভাইকে থানায় আনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুরু ঘটনাটি পরিকল্পিত সাজানো হয়েছে। এজন্য তিনি মাওলানা মেহেদী হাসান ও তার লোকজন এ ঘটনার জন্য দায়ী অবহিত করেন। শুধু তাই নয়,শুনেছি থানার ভেতরে পুলিশের ডিউটি কক্ষেও নাকি আমার ভাইকে প্রচন্ড মারধর করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাহাবুবের একাধিক বন্ধু জানান, সম্প্রতি স্থানীয় এক মাওলানাকে নিয়ে মাহাবুব ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দেওয়ায়, গতকাল শুক্রবার মুঠোফোন থেকে মাহাবুবকে হত্যার হুমকী দেয়া হয়। (হুমকীর অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে) হুমকির বিষয়ে সে ফেসবুকে গতকাল পোস্টও দিয়েছিলেন। পোস্ট দেয়ার
২৪ ঘন্টা পার না হতেই আজ বিকেলে শুনি মাহাবুবকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে প্রচন্ড মেরে সাত পিছ ইয়াবাসহ পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।”

নবীনগর পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট শিব শংকর দাস বলেন,’থানার ভেতরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে লেখক ফোরামের মাহাবুবকে মারধর করার ঘটনাটি আমিও শুনেছি। তাই পুরো ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিৎ।”
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শেখ হাফিজুর রহমান বলেন,’লেখক ফোরামের মাহাবুব মাদক বিক্রেতা হলে তার শাস্তি আমিও দাবি করছি। তাই বলে তাকে থানার ভেতরেও পুলিশের সামনে মারধর করা, কোন আইনে আছে? ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

তবে ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওলানা মেহেদী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে  বলেন,”নুরুল ইসলাম নামের এক ছেলের কাছে মাহাবুব মাদক বিক্রী করার সময় তাকে স্থানীয় জনতা গণধোলাই দেয়। আমি বরং তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে থানায় নিরাপদে পৌঁছে দেই। ঘটনাস্থলে কিংবা থানায় তাকে আমার মারধর করারতো প্রশ্নই ওঠে না।”
তবে মাওলানা মেহেদী জানান, ইদানিং মাওলানাদের ভন্ড বলে পোস্ট দেওয়াসহ নানা বাজে কথা ফেসবুকে লিখায় অনেকেই তার ওপর রুষ্ঠ ছিলো।

নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় বলেন,”সাত পিছ ইয়াবাসহ ২০/২৫ জন মানুষ মাহাবুবকে থানায় ধরে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।”
তবে ওসি জানান, থানার ভেতরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে মারধর এবং ঘটনাটি পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

নবীনগর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল রাতে বলেন”আমাকে জানানো হয়েছে মাদকসহ মাহাবুবকে পাবলিক ধরে থানায় দিয়ে গেছে। তবে ছেলেটি মেধাবী। ভালো লেখেও। কিন্তু শুনেছি মাদকাসক্ত। এরপরও বিষয়টি আমি দেখছি।”

উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে ডিবি পুলিশ সেজে চাঁদাবাজি ও মাদক কেনা বেচার অভিযোগে আরেকবার লেখক মাহাবুব গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেসময়েও তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণেই গ্রেপ্তার হন বলে সাংবাদিকদের সেসময় জানিয়েছিলেন মাহাবুব।

সুত্র- কালের কণ্ঠ

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25210 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১