শিরোনাম

প্রচ্ছদ বিচিত্র, শিরোনাম, স্লাইডার

মানবজাতি ধ্বংসে যথেষ্ট মাত্র দুই কেজি পরিমান বস্তু

সত্য রঞ্জন রায় | বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1578 বার

মানবজাতি ধ্বংসে যথেষ্ট মাত্র দুই কেজি পরিমান বস্তু

মাত্র দুই কেজি পরিমান বস্তু পৃথিবীর সাড়ে ৭০০ কোটি মানুষের জীবননাশের জন্য যথেষ্ট! এমন ভয়ঙ্কর বিষও আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ভয়ঙ্করতম বিষের তালিকাটা খুব ছোট নয়। তবে এর মধ্যে প্রথম সারির পাঁচটি সম্পর্কে এখানে জানতে চেষ্টা করবো: সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষের কথা বললে প্রথমেই আসে

আর্সেনিক। ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় জর্জ, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এবং চীনের সম্রাট গংসু- এরা সবাই এই বস্তুটির বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। তারা হয় গুপ্তহত্যার শিকার অথবা দুর্ঘটনাক্রমে আর্সেনিক খেয়ে ফেলেছেন। অবশ্য বিপ্লবী প্রীতিলতা এই রাসায়নিক খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। মাত্র ২০০ মিলিগ্রাম আর্সেনিক, একটা বৃষ্টির ফোঁটার চেয়ে বড় হবে না। কিন্তু একজন মানুষকে দুই ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর দরজায় পাঠিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট! এর বিষক্রিয়ার উপসর্গ হলো প্রথমে মুখে একটি ধাতব স্বাদ, তারপর বমি এবং হার্টঅ্যাটাক তারপর মৃত্যু। আর্সেনিক ভয়ঙ্কর বিষ তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্যান্য বিষের চেয়ে এর ইতিবাচক অনেক দিক আছে। অনেক প্রাচীনকাল থেকেই এ রাসায়নিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া মানুষ ভূগর্ভস্থ পানির সাথে প্রতিদিনই আর্সেনিক খাচ্ছে। তবে এর পরিমান সহনীয় মাত্রায় থাকার কারণে ভয়ের কোনো কারণ নেই।


টেট্রোডটক্সিন (TTX) । এটি পাফার ফিশ এবং নীল গ্রীবা অক্টোপাসে থাকে। শিকারকে অবশ করতে তারা এই বিষ ব্যবহার করে। এটি যদি কোনোভাবে মানুষের শরীরে ঢুকে পড়ে তাহলে প্রথমে ঠোঁক ও জিহ্বা জ্বালাপোড়া, মুখ দিয়ে লালা পড়া এবং শরীর প্রচুর ঘামতে থাকবে। কথা বলার কোনো ক্ষমতা থাকবে না, কোনো কিছুই গিলতে পারবে না, হৃদস্পন্দন কমে আসতে থাকবে এবং শরীর ধীরে ধীরে অবশ হয়ে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়বে। তবে এর মধ্যে কিন্তু কোনো নড়াচড়া করার ক্ষমতা থাকবে না। আর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে লাগবে ছয় ঘণ্টা। সময় থাকবে হাতে, কিন্তু দুনিয়ার কোনো ওষুধই বাঁচাতে পারবে না। আফ্রিকার ভুদু ডাইনিরা এই বিষ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট পরিমাণে। ফলে যার ওপর প্রয়োগ করা হয় সে প্রায় কোমায় চলে যায়। এই অবস্থায় হ্যালুসিনেশন হয়।

ডিজোক্সিন বা কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড ডিজোক্সিন। এই ভয়ানক রাসায়নিকটি আপনার বাগানের কোনো ফুলেই পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে একপ্রকার লতানো (ফক্সগ্লোভ) উদ্ভিদের ফুলে থাকে এটি। অনেক হাসপাতালেই কিন্তু এই রাসায়নকটি পাওয়া যায়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এটি এতোই ভয়ঙ্কর যে মাত্র দুই কেজি ডিজোক্সিন পুরো মানবজাতিকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট! এর উপসর্গগুলোর মধ্যে অবসাদ, অস্থিরতা এবং দৃষ্টিভ্রম অন্যতম। এছাড়া বমি, ডায়রিয়া, তলপেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা ইত্যাদিও দেখা দিতে পারে। হৃদস্পন্দনও অনিয়মিত হয়ে যায়।

পলোনিয়াম-২১০ । এটি সেই অর্থে বিষ নয়, অত্যন্ত তেজষ্ক্রিয় রাসায়নিক। তবে বিষক্রিয়া কাজ করবে তখনই যখন শরীরের টিস্যুর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসবে। মাত্র এক মাইক্রোগ্রাম (একটা ধূলিকণার সমান) পলোনিয়াম একজনের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। একে বলা হয় নীরব ঘাতক (সাইলেন্ট কিলার)। প্রথম রক্তকণিকা, তারপর লিভার, কিডনি, বোন ম্যারো এবং সবশেষে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়। রুশ চর আলেকসান্দর লিৎভিনেনকো এই বিষক্রিয়াতেই মারা যান। এককাপ সবুজ চায়ের মধ্যে পলোনিয়াম মিশিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পলোনিয়াম প্রয়োগ করে হত্যা করার এটিই একমাত্র জানা ঘটনা। এই ভয়ঙ্কর তেজষ্ক্রিয় মৌলটি আবিষ্কার করেন ম্যারি কুরি ও তার স্বামী পিয়েরে কুরি। এই আবিষ্কারের জন্য উনিশ শতকের শেষ নাগাদ তারা নোবেল জিতেন। এই মৌলের নাম দেয়া হয় তার দেশ পোল্যান্ড এবং রেডিয়াম মিলিয়ে। ধারণা করা হয়, তাদের রসায়নবিদ কন্যা আইরিন কুরি মারা যান এই পলোনিয়াম তেজষ্ক্রিয়তায়। তার গবেষণাগারে পলোনিয়াম বিস্ফোরণ ঘটেছিল এবং তিনি ক্যানসার আক্রান্ত হন। তবে বিস্ফোরণের ১৫ বছর পর তার মৃত্যু হয়।

বটোলিনাম (বিটিএক্স)। এটি এক ধরনের প্রোটিন, ক্লোস্ট্রিডিয়াম বটোলিসাম এবং এই প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার শরীরে এ ধরনের প্রোটিন উৎপন্ন হয়। এই প্রোটিন বটোলিজম নামে রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। তবে ওষুধ, কসমেটিকস এবং গবেষণার কাজে এই প্রোটিন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মারাত্মক বটোলিজম রোগ হয়। তাছাড়া বটোলিনাম ভয়ঙ্করতম বিষের মধ্যে অন্যতম। এই প্রোটিনের বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড নাম বটোক্স (Botox)।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নেশা তার চুল খাওয়া

১৮ মে ২০১৬ | 2262 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০