শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

‘মেম্বর’ যখন ‘লেম্বর’ এবং আলম যখন হিরো!

মাহমুদুল হক সোহাগ | বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | পড়া হয়েছে 1023 বার

‘মেম্বর’ যখন ‘লেম্বর’ এবং আলম যখন হিরো!

আমার জানা মতে, হিরো আলমের মতো এমন আরও অনেক ব্যক্তিই আছেন যারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। অথচ নির্বাচনী বিধিবিধান সম্পর্কেও তারা স্পষ্ট ধারণা এমনকি ন্যূনতম ধারণা রাখেন না। সেই অনুযায়ীই নির্বাচনী কর্মকান্ড পরিচালনা করেন তারা। যারা দেশের মানুষের জন্য আইন প্রণয়ন করবেন বলে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন তাদের একাংশের বিদ্যার ওই দৌড় চূড়ান্তভাবেই হতাশার।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাস করা আমার পরিচিত একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) আছেন। তিনি ‘মেম্বার’ শব্দটিকে ‘লেম্বর’(বিকৃত) হিসেবে জানতেন। এখনও তিনি ‘লেম্বর’ শব্দটিকে শুদ্ধ মনে করেন। নিজের তেমন কোন অক্ষজ্ঞানও নেই, স্বাক্ষর করতে গিয়ে কলম ভাঙার উপক্রম হয়। অথচ তিনি নাকি জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মেম্বার থাকাকালীন মেয়াদে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে দৃশ্যমান কোন উন্নয়নও তেমন দেখিনি।


জাতীয় ও স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক কোন নীতি না থাকার কারণে দস্তখত পর্যন্ত জানে না এমন লোকেরও প্রার্থী হওয়ার নজির রয়েছে হাজার হাজার।

এখন অনেকের কাছে মনে হতে পারে, এরা কি গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক নয়? এদের কি অধিকার নেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার? সংবিধান অনুসারে নিশ্চয়ই সেই নাগরিক অধিকার আছে। তারপরও বিবেকবানদের চিন্তা করা উচিৎ, একজন জনপ্রতিনিধি ব্যক্তির (মেম্বার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, মেয়র ও এমপি প্রার্থীর) প্রতিনিধিত্ব করার শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি মাপকাঠি থাকা দরকার। কারণ একজন জনপ্রতিনিধি শিক্ষিত না হলে তার দ্বারা ওই এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে সে যেমন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না, তেমনি কী প্রকল্প তৈরি করতে হবে, কোন প্রকল্পে কত বরাদ্দ আনতে হবে তা কিছুই জানেন না। এজন্য উচিত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের একটি শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা। এইজন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে একটি আইন পাস করা প্রয়োজন বলে মনে করি। তাহলে প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বির সংখ্যাও কমে আসবে, জনগণও পাবে শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি। যার দ্বারা উন্নয়ন ঘটবে এলাকার, সর্বোপরি দেশের।
যদি সব জনপ্রতিনিধি শিক্ষিত হন, শিক্ষিত জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবো।

নেপোলিয়ন বলে গেছেন, ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব’ এই স্লোগান দিয়ে আমরা শিক্ষার দিক থেকে আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে। শিক্ষিত জাতির কথা বলতে গেলে জনপ্রতিনিধিদেরও শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন।

সংসদ সদস্য হলেন দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের একজন সদস্য। তিনি রাষ্ট্রের একজন আইন প্রণেতা। অথচ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধ্যকতা নেই | সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারিত আছে |

অনেক সময় দেখা যায়, অশিক্ষিত লোক প্রার্থী হওয়ার কারণে কোনো শিক্ষিত লোক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। তাদের যুক্তি, একজন অশিক্ষিত লোকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেয়ে প্রার্থী না হওয়াই ভালো।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4668 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2710 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১