শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

মেয়র বললেন, আমি অসহায়

জাবেদ রহিম বিজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে | | সোমবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1271 বার

মেয়র বললেন, আমি অসহায়

এক ডাক্তারের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা। নোটিশের পর নোটিশ দিয়েও বন্ধ করা যায়নি ওই চিকিৎসকের অবৈধভাবে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করার কাজ। শুধু প্ল্যানবহির্ভূতই নয়, পৌরসভার পুকুরের জায়গাও দখল করে ফেলেছেন শহরের খ্রিষ্টান মিশনারি নামের এক প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ডাক্তার ডিউক চৌধুরী। পৌরসভা নোটিশ দিতে দিতে হয়রান। এসব নোটিশ কলাপাতা-তুল্য হয়ে উঠেছে ডাক্তারের কাছে। এমনি অবস্থায় গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন শহরের মুন্সেফপাড়া-বাগানবাড়ি এলাকাবাসী। এতে পৌরসভার পুকুর দখল ও নকশাবহির্ভূত করা বিল্ডিংটির অবৈধ অংশ অপসারণের দাবি জানানো হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবিরও দখলের কথা স্বীকার করে বলেছেন ডাক্তারের তদবিরের কাছে আমি অসহায়। পৌরসভা এবং সাংবাদিক সম্মেলন থেকে জানা যায়, শহরের বাগানবাড়ি এলাকায় ১৩.২৩ শতক ভূমি (পশ্চিম পাইকপাড়া মৌজার সাবেক এসএ ১২২ দাগের আন্দরে অবস্থিত) ক্রয় করেন খ্রিষ্টান মিশনারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডিউক চৌধুরী ও তার স্ত্রী ডাক্তার এনজেলা চৌধুরী। সেখানে বেইসমেন্টসহ ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে একটি প্রস্তাবিত নকশা অনুমোদনের জন্য প্ল্যান পৌরসভায় জমা দেন তারা। পৌরসভা ইমারত নির্মাণ নির্দেশিকা অনুসারে ডাক্তার দম্পতি কর্তৃক দাখিল করা নকশা ও লে-আউট প্ল্যান সংশোধিত আকারে অর্থাৎ উত্তরে ১.৯৬ মিটার, দক্ষিণে ১.৫২ মিটার, পূর্বে ২.৩৪ মিটার ও পশ্চিমে ৫.৫৭ মিটার করে ভূমি খালি রেখে নির্মাণ কাজ করার অনুমতি দেয়। কিন্তু অনুমোদিত নকশা বহিভূর্তভাবে ডাক্তার ডিউক ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করলে পৌর কর্তৃপক্ষ তাকে নোটিশ দিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বলে। ২০১৫ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি তাকে প্রথম নোটিশ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ওই বছরের ৬ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সালের ৪ঠা আগস্ট, ১০ই আগস্ট ও ২১শে আগস্ট মোট ৫ দফা নোটিশ প্রদান করা হয়। সর্বশেষ ৩১শে আগস্ট চূড়ান্ত নোটিশ করে পৌরসভা। এই নোটিশে বলা হয়, বারবার নোটিশের পরও পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করে আপনি (ডাক্তার ডিউক) জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ করছেন এবং পৌরসভার মালিকানাধীন পুকুরের ভূমি জবরদখল করে রেখেছেন। এই নোটিশেও কর্নপাত করেননি ডাক্তার ডিউক দম্পতি। এরপর গত ১০ই অক্টোবর প্ল্যানবহির্ভূত ও পৌরসভার জায়গায় করা ওই বিল্ডিংটির অবৈধ অংশ ভাঙার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে চিঠি দেয় পৌরসভা। এরপর গত দু-আড়াই মাসে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌরসভা। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. খবির উদ্দিন জানান, ডাক্তার ডিউক এই বিল্ডিং নির্মাণে পৌরসভার অনেক জায়গা দখল করেছেন। তার মূল বিল্ডিংয়ের সাড়ে ৮ ফুট জায়গা পৌরসভার। এর বাইরেও অনেক জায়গা রয়েছে। পুরো রিটেইনিং ওয়াল সে পৌরসভার জায়গায় করেছে। কাউন্সিলর আরো জানান, ২০১৬ সালের ৭ই আগস্ট পৌরসভা থেকে জায়গাটি মাপজোক করা হয়। পৌরসভার সার্ভেয়ার ছাড়াও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার অংশ নেন এই মাপজোকে। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ও আমার উপস্থিতিতে এই মাপজোক হয়। মাপজোকে দেখা যায় পৌরসভার পুকুরের ভেতরে ৮ ফুট ৬ ইঞ্চি জায়গা দখল করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির বলেন, ডাক্তার ডিউক পৌরসভার জায়গা দখল করে রেখেছে এটা সত্যি। কিন্তু ভাঙা যাচ্ছে না। ওপরের তদবিরের কারণে আমি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। আমরা ম্যাজিস্ট্রেট পেয়েছি। এ সপ্তাহেই একটা পদক্ষেপ নেবো। ডাক্তার ডিউক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি পুকুরের কোনো দিকেই জায়গা দখল করিনি। তাছাড়া চারদিক থেকে পৌরসভার পুকুরের জায়গা ঠিক আছে কিনা তা মেপে দেখা উচিত। সে আরো বলেছেন, পৌরসভার প্রকৌশলীরাই আমার নকশা অনুমোদন দিয়েছেন, এখন তারাই ভিন্ন কথা বলছেন। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডাক্তার ডিউক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবৈধ অংশ ভেঙে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আরাফাত মোশারফ খান অপু। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর খবির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম জুয়েল, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

Facebook Comments Box


এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25899 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০