শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

যদি কুড়ি বছর আগে আত্মহত্যা করতাম !

সরকার আমিন | বৃহস্পতিবার, ০২ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1515 বার

যদি কুড়ি বছর আগে আত্মহত্যা করতাম !

আর কয়েক মাস পর ৫০ বছরে পা রাখব আশা করি। কিন্ত নিজেকে আমার ৫০ বছরের বুড়া কখনোই মনে হয় না। ছোট কন্যা সেদিন বাইরে যাবার সময় বলল, বাবা তুমি যে গেন্জি পড়েছ আমার বান্ধবীরা দেখলে তোমাকে না আবার আমার বড় ভাই ভেবে বসে! মেয়েটা আমার ভারি দুষ্টু। আমার বড় বোন কয়েক দিন আগে মজা করে বললেন, হেরে আমিন; তুই বুড়া হইবি না?
.
সরি বন্ধু; আমি এই কথাগুলো অহংকারমূলক শ্লাঘা থেকে বলছি না। বলছি এ কারণে যে এত এত প্রশংসা আমি যে শুনি তা আমি শুনতে পারতাম না কুড়ি বছর আগে যদি আত্মহত্যা করতাম।
.
১৯৯০ থেকে ২০০৮ তক সময়টা আমি ছিলাম কঠিন নরকে। আমার যে থায়রয়েড সমস্যা আছে সেটা আমার জানা ছিল না। তাই তীব্র ডিপ্রেশনে ভুগছিলাম। ডিপ্রেশন এত যন্ত্রণার যে; যার হয় নি; সে বুঝবে না। খালি মরে যেতে ইচ্ছা করে। তখন আমার তীব্র আত্মহত্যাভীতি কাজ করতো।কিন্ত আমি বাঁচতে চাইতাম । সিলিং ফ্যান থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখতাম। চলন্ত ট্রেনের জানালায় দাঁড়াতে সাহস হতো না।
ছাদের কিনারে যেতাম না।
.
সাংবাদিক আবেদ খান; আবেদ ভাই একদিন আমাকে বললেন, ‘কিরে এত শুকায়ে যাচ্ছিস কেন? তোর তো মনে হয় থায়রয়েড সমস্যা হয়েছে। যা পিজি হাসপাতালে গিয়ে টেস্ট করা তো।’ আমি তাই করলাম। ধরা পড়লেন তিনি–থায়রয়েড সাহেব।
তাকে সাইজ করার কাজে লেগে পড়লাম। থায়রয়েড নিয়ে পড়াশোনা করে আমি বোধ হয় একটা এম বি ডিগ্রি পাবার দাবিদার। কয়েক বছর হলো থায়রয়েড আমার ফুল নিয়ন্ত্রণে। ডা. শিমুলের কেয়ারে নিজেই নিজের চিকিৎসা করি। আমার ব্লাডপ্রেসারও নিয়ন্ত্রণে। তবে খুব ঘনিষ্ট বন্ধুরা মাঝে মাঝে তা টের পায়!
.
আমি মেডিটেশনে লেগে পড়লাম। আমি যা নিয়ে লাগি তার শেষ না দেখে ক্লান্তি আসে না। পৃথিবীতে প্রবর্তিত সবকটা পদ্ধতি চেখে দেখলাম। বাহ! সত্যি চমৎকার। এখন সাঁতারে মন নিবদ্ধ করেছি।
আমার বন্ধুদের ধারণা আমি জগত-সুখীদের একজন। মুন্নী একদিন একটা সেরা ডায়লগ দিল–“ আমিন; তুমি জীবনটাকে উপভোগ করে গেলা..।
.
আসলেই আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ অকারণে আমি মানুষের ভালবাসা পেয়ে যাই। মানুষ হাইদ্দা এসে আমাকে ভালবাসে। অফিস নাকি প্রতিযোগিতার জায়গা। সেখানে বন্ধুত্ব হয় না। কিন্ত আমার অফিস নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।
.
আমার মা -বাবা মৃত্যুর কালে অঢেল সম্পদ রেখে যান নি। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ। কারণ সম্পদ থাকলে ওটা ভাগাভাগি নিয়ে আমাদের ভাই বোনের রিলেশনের বারোটা বাজতো। সম্পদ রেখে যান নি বলে আমাদের রিলেশন চমৎকার।
.
অামার একগুচ্ছ বন্ধু আছে। ‘মঙ্গলসন্ধ্যা’-গ্রুপ। ভারতে ৫ /৬ জন বন্ধু আছে। আমার ধারণা বন্ধুরা একা একা কেউ স্বর্গে যেতেও রাজি হবে না।
….
আজ সকাল বেলা ঘুম একটু তাড়াতাড়ি ভেঙে গেল। মনে মনে হিসাব করতে শুরু করলাম আমার কি কি আছে! কি কি নেই। দেখলাম আছের পরিমাণটা মাশাল্লাহ!
..
অসন্তুষ্টি মানুষকে বুড়া বানিয়ে দেয়। আমি বুড়া হতে আগ্রহী নই। তাই হাসি, নাচি; দুষ্টুমি করি। আইসক্রিম খেতে খেতে রাস্তা দিয়ে হাঁটি। ইচ্ছা হলে গান গাই। কেউ পাগল ভাবতেই পারে। কী আর করা! “তুমি যখন পাগল ভাবো; ধন্য হয় সে পাগলামি” ! লাইফ ইজ বিউটিফুল!
……………………
সরকার আমিন
2/6/2016

লেখাটি  সরকার আমিনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া


Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4750 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 2797 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০