শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম

রমজানের আগেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

অনলাইন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1516 বার

রমজানের আগেই বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

পবিত্র রমজান আসতে প্রায় একমাস বাকি। আর এ রমজানকে সামনে রেখে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে রোজার প্রধান অনুষঙ্গ ছোলা, খেসারি ও মসুর ডালের বাজার দর। উৎপাদন ও আমদানি কম ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকায় রোজার আগে পণ্যগুলোর দাম আরও বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে যারা এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করে তারা ইচ্ছে মত দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা। আর পাইকারী বাজারে দাম বাড়ার কারণে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।


সরকারের পক্ষ থেকে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে হুশিয়ারি দেয়া হলেও নেই কার্যকর ব্যবস্থা। এক শ্রেণীর অসাধু ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। আর ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।

রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, কাপ্তানসহ কয়েকটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। গত এক সপ্তাহ আগে এসব ছোলা বিক্রি হতো ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলার দাম বেড়েছে প্রায় ২৫ টাকা।

ছোলার সঙ্গে মসুর ডালের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে দেশি মসুর ডাল মানভেদে ১২০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়, অস্টেলিয়ার নিম্ন মানের মসুর ১০৫ থেকে ১১৫ টাকা, তুরস্ক থেকে আমদানি করা মোটা দানার ডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকা, নেপালি মসুর ডাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা এবং দেশি হাইব্রিড মসুর ডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মসুর ডাল ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও খেসারি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ডাবলী (অ্যাঙ্কর) ৪৪ থেকে ৫০ টাকা, মুগ ডাল দেশি সবচেয়ে ভাল মানের ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, হাইব্রিড ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির তথ্য মতে, বুধবার বাজারে প্রতিকেজি ছোলা ৮৫ টাকা থেকে ৮৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক সপ্তাহ আগে ৭৮ থেকে ৮৪ টাকায় এবং এক মাস আগে ৭৬ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতো।

সংস্থাটির হিসেব মতে, এক মাসের ব্যবধানে ছোলার দাম বেড়েছে ১০ টাকা ৯০ পয়সা। এছাড়াও খেসারি ৭০ টাকা থেকে ৭১ টাকা, ডাবলী (অ্যাঙ্কর) ৪০ থেকে ৪৬ টাকা, মুগ ডাল মান ভেদে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা।

এদিকে পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জের ডাল পট্রির পাইকারী বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিকেজি ছোলা পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৭৭ কে ৮০ টাকা এবং ভালো মানের বার্মার ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়া যে মসুর ডাল পাইকারী বাজারে ১২২ টাকা থেকে ১৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। ভালো মানের দেশি মসুর ১৩৭ থেকে ১৩৮ টাকা, দেশি হাইব্রিড ১০৫ থেকে ১০৮ টাকা, অস্ট্রেলিয়ার নিম্ন মানের মসুরি ৯৫ থেকে ৯৮ টাকা, খেসারী ৭০ টাকা থেকে ৭২ টাকা, ডাবলী (অ্যাঙ্কর) ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা, মুগ ডাল দেশি সবচেয়ে ভাল মানের ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, হাইব্রিড ৬৩ থেকে ৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি ও সুমন ডাল মিলের সত্ত্বাধীকারী নেসার উদ্দিন খান জানান, প্রতিবছরই রমজানের এক মাস আগে ছোলাসহ ডালে দাম বেড়ে যায়। যার মূল কারণ এ সময়ে চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর ডালের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। এর মূল কারণ উৎপাদন কম ও বিশ্ব বাজারে দাম বেশি।

তিনি বলেন, ছোলা, মসুরসহ বেশিরভাগ ডাল আমাদের আমদানি করতে হয়। আর এর সিংহভাগ আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে দাম বেশি থাকার কারণে দেশের বাজারে দাম বাড়ছে।

পাইকাররা মজুদ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের উত্তরে নেসার উদ্দিন খান বলেন, আসলে দাম বাড়া কমার সঙ্গে পাইকারী ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। দাম উঠানামার পেছনে সরাসরি আমদানিকারকরা জড়িত। যখন পণ্যের চাহিদা বাড়ে তখন বিক্রি না করে দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। হাজার হাজার টন পণ্য তাদের গুদামে পড়ে থাকে আর আমরা (পাইকাররা) কিনতে গেলে বলে পণ্য নেই। ফলে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে দাম বাড়ছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কেউ নেই।

পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি ছোলাসহ রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সহনশীল রাখতে হয় তাহলে সরকারের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশকে (টিসিবি) পুরোপুরি কার্যকর করতে হবে। টিসিবিকে অকার্যকর রেখে বাজারে পণ্যের দর সহনশীল পর্যায়ে আনা সম্ভব হবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পণ্যের দাম সহনশীল রাখতে, বাজার স্থিতিশীলতায় টিসিবির মতো সংস্থা কাজ করে থাকে। তারা প্রতি বছর বিভিন্ন পণ্য কম দামে কিনে মজুদ করে রাখে এবং দাম বা চাহিদা বাড়লে তা সরবরাহ করে।

আসছে রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে টিসিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রমজান মাসে সাধারণ মানুষের বাড়তি পণ্যের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুতি নিয়েছে টিসিবি। এ সময়ে পণ্যের দাম যাতে স্বাভাবিক থাকে এ জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 6902 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 3584 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০