শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

র‌্যাব হেফাজতে নিহত শাহনুরের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৬ | পড়া হয়েছে 1647 বার

র‌্যাব হেফাজতে নিহত শাহনুরের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

র‌্যাব ১৪’ ভৈরব ক্যাম্পের এর অধিনায়ক মেজর সাকিব সিদ্দিকীর অমানষিক নির্যাতনে ৬ মে ২০১৪ ইং তারিখে নিরীহ, নিরপরাধ শাহনূর আলম হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টাস এসোসিয়েশন হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেছে মরহুম শাহনুর ফাউন্ডেশন। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ছোট ভাই ও মরুহম শাহনুর ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মাওলানা মেহেদী হাসান। উপস্থিত ছিলেন নিহত শাহনুরের পিতা হাজী রঈস মিয়া মেম্বার, মা হাজী জোহরা খাতুন, ফুফাতো ভাই মাসুদুর রহমান, মামাতো ভাই আনছারুল হক ইমরান, মুহসিনুল হাসান, এম. মোরশেদ আলম চৌধুরী, আব্দুর রহমান প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে নিহতের ছোট ভাই মাওলানা মেহেদী হাসান বলেন, আজ থেকে ২ বছর পূর্বে (২৯ এপ্রিল ২০১৪ইং) মঙ্গলবার বগডহর গ্রাম থেকে আমার নিরপরাধ বড় ভাই শাহনুর আলমকে দূপুর ১২:৩০মিনিটে র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের এর সদস্যরা তার চোখ ও মুখ বেধে ভৈরব ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে রাতভর ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ জেড এম সাকিব সিদ্দিকী গং শাহনুর আলমের কোমর ও নিতম্ব থেকে শুরু করে পায়ের তলা পর্যন্ত এবং হাতের কনুইয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। তাদের অমানষিক নির্যাতনে শাহনুর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে পরদিন সকালে তাকে নবীনগর থানায় এনে পুলিশ হেফাজতে রেখে যায়। এ সময় নবীনগরের মৃত শরফত আলীর পুত্র আবু তাহের মিয়া (৪৫) কে থানায় ডেকে এনে বাদী করে শাহনুরসহ কয়েকজনকে আসামী করে নবীনগর থানায় মামলা নং- ৮২ দায়ের করে। এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১ মে জেলা কোর্টে চালান দেয়া হয়। কোর্ট তাকে জেল হাজতে পাঠায়। র‌্যাবের নির্যাতনে অসুস্থ শাহনুর আলমের অবস্থার অবনতি ঘটলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কারা কর্তৃপ ৪ মে ২০১৪ ইং তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আরো অবনতি ঘটলে সেদিনই তাকে কুমিল্লা কারা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানেই ৬ মে ২০১৪ইং আমার বড় ভাই শাহনুর আলম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।

তিনি বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আমার ভাইয়ের উপর ব্যাপক শারিরীক নির্যাতনের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনার পর পরই আমি (মেহেদী হাসান) বাদী হয়ে র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ জেড এম সাকিব সিদ্দিকী ১নং আসামী, নজরুল ইসলাম নামক স্থানীয় আদম দালালকে ২নং আসামী ও আরো ৯জন র‌্যাব সদস্যকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা মেজিস্ট্রেট কোর্টে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করি। মেজিস্ট্রেট নাজমুন নাহার অভিযোগটি নবীনগর থানাকে এফ.আই.আর হিসেবে গ্রহণের নিদের্শ দেন। তারপর এই নির্দেশের পর মেজিস্ট্রেট নাজমুন নাহারকে তাৎক্ষণিকভাবে বিচারিক ক্ষমতা থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন করি। প্রতি মাসেই কার্য তালিকায় আমাদের রীট পিটিশনটি উঠবে বলে জানানো হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে আজ পর্যন্ত এর কোন শুনানি হয়নি।


মাওলানা মেহেদী হাসান বলেন, আমার বড় ভাই শাহনুর আলম এমন এক অমায়িক মানুষ ছিলেন। যার বিরুদ্ধে মৃত্যু পর্যন্ত কোন থানায় মামলা তো দূরের কথা, সাধারণ ডায়েরীও ছিল না। তিনি ছিলেন সহজ, সরল একজন পীরভক্ত ও চিরকুমার ব্যক্তি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কেমন দেশে বাস করছি, যেখানে বিনা কারণে নিরপরাধ মানুষকে অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়। বিচার চাইলে পরিবারের সদস্যদের গুম-খুন ও গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করে রোড এক্সিডেন্ট বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। যে র‌্যাব বাহিনী দেশের আইন শৃঙ্খলার রক্ষক, বিশেষ ক্ষমতা বলে তারাই আজ ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। এতে করে শুধু র‌্যাবের ভাব মর্যাদাই ক্ষুন্ন হচ্ছে না, সাথে সাথে সরকারেরও বদনাম, দূর্নাম রটছে জনমনে। আমরা চাই এদেশে নির্যাতিতরা আদালতে ন্যায় বিচার পাক। অপরাধীদের শাস্তি হোক। তাহলে স্বজন হারা পরিবার হিসেবে অন্তত মনকে শান্তনা দিতে পারবো।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন- “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! স্বজন হারানোর ব্যথা আপনার চেয়ে কেউ ভালো জানে না। আমরা বিশ্বাস করি, আপনি আমার ভাই শাহনুর আলম হত্যার বিচারে উদ্যোগী হবেন।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25653 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০