শিরোনাম

প্রচ্ছদ শিরোনাম, সাহিত্য পাতা, স্লাইডার

সাহায্য (ছোট গল্প)

আহমদ মাহজারুল হক | শনিবার, ০৫ আগস্ট ২০১৭ | পড়া হয়েছে 1920 বার

সাহায্য (ছোট গল্প)

নদীর পারের গ্রামটিতে মনু মিয়া নামে ধার্মীক এক লোক ছিলো। সে সব কিছুতেই মহান অাল্লাহ কে স্বরণ করতো। শুধু তাই নয়, মনে প্রাণে অাল্লাহ কে ছাড়া অন্য কিছু ভাবতো না সে।

তার ধ্যান জ্ঞান সবকিছুতেই আল্লায়তায়ালার অপুর্ব সৃষ্ঠির প্রশংসা পেতো। মনু মিয়া দিনের বেশিরভাগ সময় আল্লাহকে ডাকায় ব্যস্ত থাকতো। সে ছিল পরিপূর্ণ একজন ধার্মীক মানুষ।
এক সময় গ্রামে বন্যা শুরু হলো। বাচার তাগিদে একে একে সকলে গ্রাম ছাড়তে লাগল। যে যার মতো উঁচু জায়গায় নিরাপদ অাশ্রয় নিতে ছোটাছুটি শুরু করে দিলো। পুরু গ্রাম পানিতে তলিয়ে থাকলেও মনু মিয়া গ্রাম ছাড়লেন না।  তার বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ তায়ালা সকল বিপদ আপদ থেকে বান্দাকে মুক্ত রাখেন।


মনু মিয়া ভাবে, সারা জীবন স্রষ্ঠাকে ডেকেছি। নিশ্চয় তিনিই এ বিপদ থেকে আমায়/আমাদের হেফাজত করবেন।
দিনদিন পানি বাড়তে লাগলো। মনু মিয়ার বাড়িতে তখন কোমর সমান পানি।
পাশের বাড়ির তোফাজ্জল বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় সরে আসার পরামর্শ দিল মনুকে, মনু তুমিও চলো নদীর অবস্থা ভালো না শেষে সব ডুবে যায় কিনা।

মনু মিয়া হাসি দিয়ে জানালো, অামার অাল্লাহ অামাকে বাঁচাবেন তোমারা যাও ।

দিনে দিনে পানি বাড়তে থাকলো। মনু মিয়ার বাড়ির উঠোন এখন পুকুরে পরিণত। সে উঠোনে দাড়িয়ে দুহাত তুলে অাল্লাহর সাহায্য কামনা করছে।

ঠিক ওই মহুর্তে এক লোক নৌকা দিয়ে কোথাও যাচ্ছিল। মনু মিয়াকে বাড়ির উঠোনে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলতে লাগলো ভাই তারাতরি অামার নৌকায় উঠেন, গ্রামের সবাই চলে গেলো আর আপনে…।

মনু মিয়ার সেই একই বাক্য, দৃঢ় চিত্তে উচ্চ স্বরে বললো, মহান অাল্লাহ অামাকে বাঁচাবেন। তুমি চলে যাও। নিশ্চয় অাল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। তিনিই মালিক।এই কথা শুনে নৌকা ওয়ালা চলে গেলেন।
পানি কমার নাম নেই, ধীরেধীরে পানির উচ্চতা বাড়তেই থাকলো।

সে সরল মনে অাল্লাহকে ডেকেই চলেছে। তখন পানি মনু মিয়ার গলা সমান হয়ে গেছে। চারিদিকে থৈ থৈ পানি। অন্ধকারে ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টি সাথে শো শো শব্দেও মনু মিয়া সাহস হারান না। ওই সময় অাকাশ থেকে একটা বাতি জ্বলে ওঠলো। যা মনু মিয়ার মুখের উপর পরলো। মনু মিয়া ভাবলো এ বুঝি অাল্লাহর রহমত বর্ষিত হল। সে জোড়ে জোড়ে অাল্লাহ কে ডাকতে লাগলো। হে অাল্লাহ তুমি মহান। তুমিই মালিক। ঠিক তখন সে বুঝতে পারলো এটা হেলিকপ্টার। সেখান থেকে তাকে দেখছে। হেলিকাপ্টার থেকে রশি ফেলা হলো। বলা হলো, ভাই অাপনি ডুবে যাবেন। তারাতরি রশিটা ধরে উপরে চলে অাসুন। মনু মিয়া কষ্ট পেলেন। কিন্তু ঈমান তার শক্ত। তাই অাবারো বলেন, ভাই অাপনি চলে যান। মহান অাল্লাহ অামাকে বাঁচাবেন। নিশ্চয় অাল্লাহ ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। তিনি নেক মানুষদের সাথে অাছেন। কি অার করার হেলিকপ্টার চলে গেলো।

বন্যার পানিতে ভিজে দিনকয়েক অনাহার থাকার পর মনু মিয়া পানিতে ডুবেই মরে গেলো।
মনু মিয়ার মনে অনেক কষ্ট। সে অাল্লাহতায়ালার দরবারে দাড়িয়ে অাছে। চারিদিকে অনেক নেক মানুষ সবাই হাসি খুশী। তাদের সকলকে বেহেশত দান করা হয়েছে। মনু মিয়া কে এখনো বেহেশত দেওয়া হয়নি। বিষয়টা জটিল। ফেরেস্তারা  চিন্তায় অাছেন অাল্লাহ কি কররেন তা দেখার জন্য।
মহান অাল্লাহ সিংহাসনে বসলেন। বিচার শুরু হল। মনু মিয়া কান্না শুরু করলো অাল্লাহ কে দেখে। অাল্লাহ বললো, মনু তুমি কান্না করছো কেন? মনু বললো, হে অাল্লাহপাক অাপনি বলেছেন অাপনি নেক মানুষদের সাহায্য করেন। তাদের পাশে থাকেন। অাপনাকে ডাকলে সাড়া দেন। অামি যখন  ডুবে মরলাম, মরার আগে কত ডাকলাম আপনাকে, কই একটি বারের জন্য তো দেখা দিলেন না! এ অাপনার কেমন বিচার??
মহান অাল্লাহ রাগ করলেন,বললেন তুই আমার খাস বান্দা বলেই তোকে উদ্ধার করতে প্রথমে লোক পাঠালাম যেনো তুই পাড়ে নিয়ে আসে। তুই গেলি না। অাবার তোকে বাঁচানোর জন্য নৌকা পাঠালাম। তুই উঠলি না। গো ধরলি। শেষমেষ তোর জন্য হেলিকাপ্টার পাঠালাম তুই ওঠলি না। এবার বল অার অামি কি করবো?? তোকে তো বুদ্ধিদান করেছিলাম। তুই মাথা খাটালি না। এটা কি অামার ভুল….??
মনু মিয়া বুঝতে পারলেন তার চিন্তায় ভূল ছিলো। এবার সে হাউমাউ করে কান্না শুরু করলো। হায় যদি বুদ্ধি করে চলতাম…।। অাল্লাহর দয়া হলো, তিনি মনু কে বেহেশতবাসি করে দিলেন।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25220 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০