শিরোনাম

প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক, শিরোনাম, স্লাইডার

সৌদি আরব ৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নিতে ইচ্ছুক

| মঙ্গলবার, ০৭ জুন ২০১৬ | পড়া হয়েছে 2493 বার

সৌদি আরব ৫ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নিতে ইচ্ছুক

বাংলাদেশ  থেকে আরো ৫ লাখ শ্রমিক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। দেশটির শ্রমমন্ত্রী ড. মুফরেজ বিন সাদ আল হাকবানি এ সম্পর্কে বলেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে আরো ৫ লাখ জনশক্তি নিতে আগ্রহী। রোববার রাতে জেদ্দার রয়্যাল কনফারেন্স প্যালেসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে  সৌজন্য সাক্ষাতে সৌদি শ্রমমন্ত্রী এই আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর  প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি মন্ত্রীর সাক্ষাতের পর প্রেস সচিব এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল  সৌদের আমন্ত্রণে বর্তমানে ৫ দিনের সরকারি সফরে সৌদি আরবে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে সৌদি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিকরা এখানে সুনামের সঙ্গে কাজ  করছেন। প্রায় ৪২ হাজার নারী শ্রমিকও গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং সৌদি শ্রমমন্ত্রী জনশক্তি নিয়োগে ব্যয় সংকোচনের জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের  দৌরাত্ম্য বন্ধে একমত হন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক ছাড়াও চিকিৎসক, শিক্ষক এবং প্রকৌশলীদের নিয়োগ উন্মুক্ত করে  দেয়ার লক্ষ্যও রয়েছে সৌদি আরবের। দেশটিতে মহিলা গৃহকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এসব গৃহকর্মীকে স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণের পরই বিদেশে পাঠাবার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মেয়াদ ভবিষ্যতে আরো বাড়ানো হতে পারে। অনলাইন  রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্য এ সময় তুলে ধরেন। জনশক্তি নিয়োগের ক্ষেত্রে  সৌদি শ্রমমন্ত্রীকে কড়াকড়ি আরোপের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দালাল শ্রেণি যেন এই প্রক্রিয়ায় ঢুকতে না পারে বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। এর উত্তরে সৌদি মন্ত্রী ড. মুফরেজ বলেন, ‘শ্রমিকদের সুরক্ষা  দেয়া আমাদের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।’
পরে রয়্যাল কোর্ট অ্যাডভাইজার ইয়াসির আল রুম্মান একই স্থানে বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্নক্ষেত্রে সৌদি আরবের আরো বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ রাজধানীর চরপাশে চক্রাকারে সড়কপথ, রেলপথ এবং  নৌপথ তৈরি প্রকল্পেও বিনিয়োগ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এবং সৌদি আরব দুই পক্ষেরই সুবিধার জন্য ‘যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন’কে আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে উপদেষ্টাকে পরামর্শ দেন।  সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম- যদি ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দেয় তাহলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তার সমাধান হতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০’র প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশেও তার সরকার ’ভিশন-২০২১’ এর লক্ষ্য নির্ধারণ করে লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রয়্যাল  কোর্ট অ্যাডভাইজার বলেন, যদিও  সৌদি আরবের বিনিয়োগের শতকরা ৯৫ ভাগই দেশে করে থাকে তথাপি এখন এই দেশের নতুন কর্মপন্থানুযায়ী তারা আন্তর্জাতিক  ক্ষেত্রে বিনিয়োগের দিকেও নজর দিচ্ছে। এর আগে সৌদি সহকারী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মো. আব্দুল্লাহ এলায়েসার রয়েল কনফারেন্স প্যালেস-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সৌদি সহকারী মন্ত্রী সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ নির্মাণ ব্যাটালিয়ন রয়েছে এবং তিনি সৌদি সশস্ত্র বাহিনীকে তাদের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে সহযোগিতার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, এছাড়াও বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর একটি নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট রয়েছে। সৌদি  গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান খালিদ বিন আলী হুমায়দানও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ এবং তার দেশ ঢাকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায়।
শেখ হাসিনা সন্ত্রাসীদের বিষয়ে দু’দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে কথা বলার সময় সৌদি  গোয়েন্দা প্রধান বলেন, সন্ত্রাসবাদ ধর্মকে কলুষিত করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করে মুসলিম উম্মাহর মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে চাই।’ এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, কতিপয় লোকের কর্মকাণ্ডের কারণে ধর্মের বদনাম হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই এদের বিতাড়িত করবো এবং ইসলামের প্রকৃত চেতনার ব্যাপারে লোকদের বুঝাবো। নানা লোকের নানা মত থাকবে কিন্তু আল্লাহর উপর আমাদের বিশ্বাস থাকতেই হবে।’
জেদ্দা থেকে মদিনায় প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেদ্দা থেকে গতকাল সকালে পবিত্র নগরী মদিনায় পৌঁছেছেন। পাঁচ দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। আকাশ পথে জেদ্দা থেকে মদিনায় পৌঁছার পর মদিনার গভর্নর যুবরাজ ফয়সাল বিন সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরের রয়েল লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাকে একটি মোটর শোভাযাত্রায় মদিনা হিলটনে নিয়ে যাওয়া হয়। মদিনা অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী মদিনা হিলটনেই অবস্থান করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সেখানে মসজিদ-ই-নববীতে জোহরের নামাজ আদায় করেন। তিনি পরে একই মসজিদে আসর, মাগরিব ও তারাবির নামাজ আদায় করবেন। রাতে তিনি মহানবী হযরত মুহম্মদ (সঃ)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী রয়েছেন।
দেশে ফিরছেন আজ: প্রধানমন্ত্রী আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে মদিনায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তার ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের বাদশাহ্‌ সালমান বিন আব্দুল আজিজের আমন্ত্রণে পাঁচদিনের সরকারি সফরে গত শুক্রবার জেদ্দায় পৌঁছেন। সেখানে বাদশাহসহ দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে তার সিরিজ আলোচনা হয়েছে।

Facebook Comments Box


এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সৌদি আরবের ঈদুল আজহা ১২ সেপ্টেম্বর

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 1755 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১