শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম, স্লাইডার

হাওরে খাবারের জন্য হাহাকার

অনলাইন ডেস্ক | শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭ | পড়া হয়েছে 978 বার

হাওরে খাবারের জন্য হাহাকার

চোখে পানি, ক্ষুধার ছাপ মুখেও। হাওরাঞ্চলে বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে ১৫ টাকা দরের চাল কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন অশীতিপর কয়েকজন বৃদ্ধ।

সকালে চুলা জ্বলেনি। স্কুল বাদ দিয়ে চলে এসেছি খোলাবাজারের চাল কিনতে। বুধবারও এসেছিলাম। তালিকায় নাম নেই বলে চাল কিনতে পারিনি। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে না খেয়ে আছে। যে টাকা আছে তা দিয়ে বাজার থেকে চাল নিলে কাল আবারও না খেয়ে থাকতে হবে। আজও চাল নিতে পারলাম না। কোনো উপায় দেখছি না।’
চোখে পানি। ক্ষুধার ছাপ চোখে-মুখেও লেগে আছে। হাফ শার্ট আর লুঙ্গি পরা আব্দুর রশিদ মাটিয়ানা হাওরের বাসিন্দা। তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়ধল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। নৌকায় বৃহস্পতিবার সকালে গিয়েছিলেন তাহিরপুর বাজারে। খোলাবাজারে ১৫ টাকা দরের চাল কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন প্রায় আড়াই ঘণ্টা। তালিকায় নাম নেই বলে লাইন থেকে বের করে দেয়া হয় তাকে।
এই প্রতিবেদককে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন অসহায় মধ্যবয়সী আব্দুর রশিদ। আড়ালে ডেকে নালিশও করেন। বলেন, সব চাল-আটা তাহিরপুর বাজারের আশপাশের মানুষরাই পাচ্ছেন। খোলাবাজারে এখানে মাত্র দুইশ জন মানুষের কাছে চাল-আটা বিক্রি করা হচ্ছে। যারা একেবারে দুর্গত এলাকা থেকে এসেছেন তারা নাগালেই যেতে পারছেন না। ১১ বিঘা জমির ধান পানির নিচে। আর এখন চালের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
চোখ মুছতে মুছতেই আব্দুর রশিদের কণ্ঠ ধরে এল। শার্টের পেছনে গুঁজে রাখা চালের খালি ব্যাগটি দেখিয়েই কথা বন্ধ করে দিলেন। যেন রাষ্ট্র-সমাজের প্রতি অভিমান করেই কথা বন্ধ করে দেয়া।
পাশেই আরেক ক্ষতিগ্রস্ত সোহেল মিয়া। মাটিয়ানা হাওর থেকেই এসেছেন। তিনিও ক্ষোভের কথা শোনালেন। বললেন, ‘সরকার অনেক ত্রাণের কথা বলছে। কিছুই তো পাচ্ছি না আমরা। লাইনে দাঁড়িয়ে খোলাবাজারের চাল কিনব তাও মিলছে না।’
তাহিরপুর বাজারের খোলাবাজারের চাল-আটার ডিলার জগদীশ রায়। বলেন, ‘হাওরে পানি আসার পর থেকে প্রতিদিন দুইশ জনের কাছে ১৫ টাকা দরে ৫ কেজি চাল এবং ১৭ টাকা দরে ৫ কেজি করে আটা বিক্রি করছি। দিনে দিনে চাপ বাড়ছে। আজ চারশ জনকে দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু লাইনে দাঁড়ানো অর্ধেক মানুষের কাছেও চাল-আটা বিক্রি করতে পারব না। ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ হাহাকার করছে। বেসামাল হয়ে পড়ছি। পুলিশ দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছি না।’
লাইনে দাঁড়িয়েই কথা বলেন বৃদ্ধ সোলায়মান শেখ। বলেন, টাকা ধার করে এনে ৫ কেজি চালের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর গড়ালো। এখনো ডাক পড়ল না। রোদে আর দাঁড়াতে পারছি না। অথচ জমিতে মণকে মণ ধান পানির নিচে পচে গেল।
সরকার যে ত্রাণ দিচ্ছে তা অপ্রতুল বলে মত দিলেন তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলও। বলেন, সরকার মাসে ৩০ কেজি চাল এবং ৫০০ টাকা করে ত্রাণ দেয়ার ব্যবস্থা করছে পরিবারপ্রতি। এটি কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। যে পরিবারে পাঁচজন সদস্য সেই পরিবারের জন্য এক কেজি চাল খুবই কম। ধান আর মাছই তো হাওরবাসীর বেঁচে থাকার পাথেয়। ধান পচে গেল, মাছও মরে গেল। অন্য কোনো উপায় নেই এ অঞ্চলের মানুষের কাছে। অন্য অঞ্চলের বন্যার সঙ্গে তুলনা করে এখানে ত্রাণের ব্যবস্থা করলে ভুল হবে। এখানকার মানুষদের বাঁচাতে হলে এখনই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


হাওরে পরিবার প্রতি এক হাজার
টাকা দেয়ার সুপারিশ
এদিকে দেশের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে চালের পাশাপাশি ৫০০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার টাকা করে দেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৃহস্পতিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু সাংবাদিকদের বলেন, হাওরের পরিস্থিতি নিয়ে কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
‘মন্ত্রণালয় পরিস্থিত মোকাবেলায় তাদের গৃহীত পদক্ষেপ কমিটিকে অবহিত করেছে। কমিটি ৫০০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার টাকা দেয়ার সুপারিশ করেছে।’
অসময়ে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হাওর এলাকায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে গত রোববার সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চালের পাশাপশি ৫০০ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ছয় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ সহায়তা দেয়া হবে।
এছাড়া এসব জেলার ক্ষতিগ্রস্ত আরও (যারা ত্রাণ নেবেন না) এক লাখ ৭১ হাজার ৭১৫ পরিবারকে ওএমএসের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়া হবে।
এ মাসের শুরুতেই অসময়ে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন লাখ লাখ কৃষক।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে জানানো হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে টিআর ও কাবিটা কর্মসূচির ৫০ শতাংশ টাকায় সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে এবং অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার সুপারিশ করা হয়।
ধীরেন্দ্র দেবনাথের শম্ভুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, বি এম মোজাম্মেল হক, আবদুর রহমান বদি, মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল এবং সৈয়দ আবু হোসেন অংশ নেন।
বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভালো নেই : আকবর আলি খান

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | 6901 বার

স্বর্ণের দাম কমেছে

২৯ মে ২০১৬ | 3577 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০