শিরোনাম

প্রচ্ছদ নবীনগরের খবর, শিরোনাম, স্লাইডার

১৯ শয্যার মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষসহ ৫৮ জন রোগীর বাড়তি চাপ

| বুধবার, ০৬ নভেম্বর ২০১৯ | পড়া হয়েছে 586 বার

১৯ শয্যার মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষসহ ৫৮ জন রোগীর বাড়তি চাপ

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু// হাসপাতালের শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডের ১৯টি বেডে গাদাগাদি করে প্রায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। পাশের বারান্দা ও হাসপাতালের খোলা ছাদেও শুয়ে রয়েছেন প্রায় ২০ জন রোগী। এত রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে দু’জন নার্স রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। আশ্চর্যজনক হলো, ওই মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে পুরুষ রোগীদেরও স্ব স্ব বেডে শুয়ে সমানতালে চিকিৎসা সেবা নিতে দেখা গেল। পাশে থাকা হাসপাতালের ছাদ, বারান্দা ও ১৯ শয্যার এই মহিলা ওয়ার্ডে সব মিলিয়ে মোট ৫৮ জন পুরুষ, মহিলা ও শিশুর চিকিৎসা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র এটি। গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে হাসপাতালটিতে গিয়ে এমন অভাবনীয় দৃশ্য চোখে পড়ে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বিগত ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। পরে ২০১৪ সালে হাসপাতালটিতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে সম্প্রসারিত তিনতলা বিশিষ্ট নতুন একটি ভবনের উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই ভবনের নীচ তলায় চিকিৎসকদের চেম্বার, ইপিআই কেন্দ্র ও স্টোর কক্ষ এবং দ্বিতীয় তলায় প্রশাসনিক কক্ষ, লেবার কক্ষ, অপারেশন থিয়েটারসহ আনুষাঙ্গিক কক্ষ রয়েছে। আর তিন তলায় রোগীদের জন্য তিনটি কেবিন, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য দুটি কক্ষ এবং ১৯ শয্যার একটি মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নতুন ভবনটি চালু হবার পর মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় ৩১ শয্যার পুরাতন দ্বিতল ভবনেরর পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড দুটির কার্যক্রম চলতি বছরের জুলাই মাসে বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে দ্বিতল ভবনের ওই দুটি ওয়ার্ডের কার্যক্রম তিন তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে চারমাস আগে পরিত্যক্ত দ্বিতল ভবনটিতে থাকা ৩১ শয্যার পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড দুটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন ভবনের তিন তলায় থাকা মাত্র ১৯ শয্যার একমাত্র শিশু ও মহিলা ওয়ার্ডেই এখন পুরুষ ও মহিলাসহ সব রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ। আর এ কারণে ১৯ শয্যার মহিলা ওয়ার্ড, বারান্দা ও হাসপাতালটির ছাদে পর্যন্ত রোগীদেরকে এখন চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রীতিমত হিমশিম খেতে দেখা গেছে।

এ সময় এ প্রতিবেদকের কাছে বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা হয়। জমিলা বেগম, রাহানা বেগম, কবির মিয়াসহ একাধিক রোগী ও আত্মীয় বলেন, আগের বিল্ডিংয়ে মহিলা ও পুরুষ আলাদা আলাদা ওয়ার্ড ছিল। বেডের সংখ্যাও বেশী ছিল। কিন্তু এখন নতুন বিল্ডিংয়ে মাত্র ১৯টি বেডের পাশাপাশি বারান্দা ও ছাদেও গাদাগাদি করে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ফলে রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এদিকে স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, হাসপাতালটিতে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা থাকার পরও এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় তলায় অপারেশন কার্যক্রম (অটি) চালু হচ্ছে না। ফলে ডেলিভারি রোগীদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা (সিজার) নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালটির প্রধান, উপজেলো স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ৩১ শয্যার পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এখন মাত্র ১৯ শয্যার একটি ওয়ার্ডে সব রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তাই রোগীদের কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, শুধু গতকালই (সোমবার) একদিনে এখানে ৫৮ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাই নিরুপায় হয়েই আমাদেরকে বারান্দা ও পাশে থাকা ছাদেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫) এবাদুল করিম বুলবুল আজ দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, আগামী সপ্তাহেই আমি হাসপাতালটি পরিদর্শনে যাব। পরিত্যক্ত ভবনের জায়গায় শিগগিরই নতুন ভবনের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেব। পাশাপাশি খুব দ্রুত হাসপাতালটির অটির কার্যক্রমও চালু করা হবে।

Comments

comments

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নবীনগরে ভুয়া পুলিশ আটক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 25755 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১