শিরোনাম

প্রচ্ছদ খোলা কলাম, শিরোনাম, স্লাইডার

২০২১ সাল মিথ্যার বদহাওয়া নয়, সত্যের সুবাতাসে সুচি হোক

মোহাম্মদ মাজহারুল হক | রবিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২১ | পড়া হয়েছে 228 বার

২০২১ সাল মিথ্যার বদহাওয়া নয়, সত্যের সুবাতাসে সুচি হোক

সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, ভাল-মন্দ, সুন্দর-অসুন্দর, কল্যাণ-অকল্যাণ এই শব্দগুলো জন্ম থেকেই দ্বন্দ্বে লিপ্ত। মানব সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ নিজ স্বার্থের জন্য একে অপরের সঙ্গে দ্বন্ধে লিপ্ত ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পরশ্রীকাতর মানে অন্যের ভাল বা সুখ দেখে কিছু মানুষের মানসিক যন্ত্রনা বেড়ে যায় এবং মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যায়।

সম্প্রতি বাংলা ভাষার অন্যতম লেখক, স্বনামধন্য শিক্ষক ড. জাফর ইকবাল তার একটি প্রবন্ধে পরশ্রীপুলক এই বাংলা শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পরশ্রীপুলক মানে অন্যের সুখ ও সমৃদ্ধি দেখে যেন মানুষ পুলকিত হয়/আনন্দিত হয়। সত্য সকলকালে সকল কল্যাণকামী মানুষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তেমনি মিথ্যা সকল কালে সকল বিপদগামী মানুষের সাথে অ¤øমধুর সম্পর্কের মতো। তারা মিথ্যা ছাড়া বাচঁতে পারেনা, বাঁচতে চায়না। জীবন সংগ্রামের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষকে সত্য-মিথ্যার দ্বন্দে’র মধ্যেই এগিয়ে যেতে হয়।


এই সত্য-মিথ্যার দ্বদ্ব ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, নাগরিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, কর্ম জীবন একমকি ধর্মীয় জীবন সকল ক্ষেত্রেই বিদ্যমান। সমাজের সকল স্তরের শ্রেণী পেশার মানুষ সত্য মিথ্যার দ্ব›েদ্বর বেড়াজালে ঘোড়পাক খাচ্ছে। সমাজের বিবেক নামে খ্যাত বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে কেউ কেউ তার পান্ডিত্য দ্বারা সত্যের সন্ধ্যান করে। অন্য দিকে কেউ কেউ তার পান্ডিত্য দিয়ে মিথ্যাকে কিভাবে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় তার জন্য কত কিছু করে। সত্য মিথ্যার এই খেলায় এখন সকল ধর্ম ব্যবসায়ীরাও বেশ অগ্রগামী। এসব দেখে মনে হয় আমরা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সত্যকে খুঁজি, মিথ্যা বেচি, মিথ্যাই যেন আমাদের একমাত্র পূঁজি!
এই সত্যটুকু উপদলব্দি করার পরও আমরা কত ভাবেই না চেষ্টা করি নিজের অনায্য চাওয়া-পাওয়াকে চরিতার্থ করার জন্য। অন্যের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি দেখলে অসৎ মানুষের অন্তর বিষাদে ভরে উঠে। একসময় পৃথিবীটা মানুষ বসবাসের অনোপযুক্ত ছিল। তখন বাঘ, শিয়াল, সিংহ, বিষাক্ত সাপ সহ কত হিংস্র পশুর সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হতো। হিংস্র পশুর সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার জন্যই মানুষ একসাথে সংঘবদ্ধ চলতে শুরু করে। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ পৃথিবী থেকে হিংস্র পশুরা বিলুপ্ত হলেও মানুষের মাঝে পশুর সিংহভাগ চলে এসেছে। তাই মানুষ একজন অন্যজনকে অন্যায়ভাবে আঘাত করতে দ্বিধা করে না। ঘোষণা দিয়ে একজন অন্য জনের ক্ষতি করে দম্ভ দেখায়। একজনের দুঃখে অন্যজন পশুর ন্যায় বিকৃত উল্লাসে মেতে উঠে। পরিবার ও সমাজে আজ ন্যায্যতা বিপরীতে ন্যায় বিচার নানাভাবে উপেক্ষিত। কিছু মানুষ জ্ঞানহীন পশু ন্যায় শুধু নিজের লাভের কথা চিন্তা করে অন্যের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাৎস্যন্যায়ে মেতে উঠেছে। ভাবখানা এই রকম যে, আমি যে এতবড় খারাপ তা বুঝার ক্ষমতা কার আছে? তাছাড়া একজন অসৎ মানুষ ভাবে পৃথিবীর সকল মানুষই তার মত অসৎ, মিথ্যাবাদি ও পাপী।
মিথ্যাবাদী উচ্ছৃঙ্খল মুনাফেকদের চেনা খুব সহজ,তারা কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রæতি ভঙ্গ করে এবং আমানতের খেয়ানত করে। মিথ্যার উৎপত্তি হয় শয়তান থেকে। মিথ্যাকে ব্যবহার করে শয়তান তার সমস্ত সৃষ্টিকে খোদাবিরোধী করতে প্রতিশ্রæতিবন্ধ। আর সৃষ্টিকর্তার চ্যালেঞ্জ হলো শয়তানের শয়তানী তথা মিথ্যা থেকে তাঁর সৃষ্টিকে রক্ষা করা। শুধুমাত্র সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। মিথ্যা বিভিন্ন রকম হয় পারিবারিক মিথ্যা, সামাজিক মিথ্যা, রাজনৈতিক মিথ্যা, শিক্ষাক্ষেত্রে মিথ্যা, কর্মক্ষেত্রে মিথ্যা এবং রাষ্ট্রীয় মিথ্যা। চারপাশে মিথ্যার আচার-বিচার, মিথ্যার সমাজ-সংসার। এই সব মিথ্যার রূপ, রস এবং সোধাগন্ধ আমাদের সকলেরই জানা। তাই ঐ মিথ্যার আড়াল থেকে এখন নিজেদেরকে দুরে সরিয়ে রাখা সময়ের দাবি। কথায় বলে, সত্যের নৌকা সাতবার ডুবে এবং সাতবারই ভেসে উঠে। কেউ ক্ষণিকের জন্য মিথ্যাকে সত্য বলে চালাতে পারে কিন্তু একদিন তা মিথ্যারূপেই প্রমাণিত হয়। কারণ, সত্যের জয় চিরদিনই হয়। যিনি মিথ্যা কথা বলেন, তিনি মিথ্যাবাদী বা মিথ্যুক নামে সমাজে পরিচিতি পান ও সমাজের সকলেই তাকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করে।
সকল মানুষের কাছে সত্য একটি আরাধ্য বিষয়। যারা সত্য কথা বলে তাদের আমরা বিশ্বাসী হিসেবে সম্মান করে থাকি। ইসলাম ধর্মের শেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) শৈশবেই আল-আমিন বা বিশ্বাসী খেতাব পেয়েছিলেন। তেমনি পৃথিবীর ইতিহাসে বহু জ্ঞানী মানুষ সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন। সত্যবাদি ও সৎপথ মানুষকে সাময়িক কষ্ট দেয় কিন্তু একদিন মিথ্যার অন্ধকার ভেদ করে সত্যের জয় উদিত হবেই। তাই বলা যেতে পারে মিথ্যাবাদী যেমন ঘৃণার পাত্র ও মিথ্যার শাস্তি পরকালে দুজখের আজাব ভোগ করবে তেমিন একজন সত্যবাদী সকলের শ্রদ্ধায় বীর ধর্পে বেঁচে থাকবে এবং সত্য ও ন্যায় পথের চলার পুরষ্কার হিসেবে পরকালে কাঙ্খিত জান্নাত লাভ করবে।
তাই সৃষ্টির সেরা মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো মিথ্যা তথা মিথ্যাবাদিকে ধিক্কার দেয়া। তেমনি সত্য ও সত্যবাদিকে সম্মান করা। জীবনের প্রতিটি স্তরে সত্যকে আকড়ে বেঁচে থাকা। সবার উপরে মানুষ সত্য সুতরাং এই মানুষের প্রতি অন্যায়ভাবে যুলুম করে, কষ্ট দিয়ে কেউ কোন দিন সুখী হতে পারে না। ধ্বংস তাদের অনিবার্য, এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাস তাই বলে। সত্য, সুন্দর ও আলো, মিথ্যা,কুৎসিত ও অন্ধকার। এখন সিদ্ধান্ত আপনার কোন দিকে যাবেন।

লেখক,সাহিত্যিক,কলামিস্ট

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | 4849 বার

নবীনগরের এপ্রিল ট্রাজেডি ১৯৭১

২৯ এপ্রিল ২০১৭ | 3023 বার

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১